নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকার ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন লেগে দগ্ধ হয়ে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন থাকা কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার দম্পতি আব্দুস সামাদ ওরফে খোকন সরকার (৫৪) ও তাঁর স্ত্রী ফজিলত বেগম (৪০) মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর ছয় ঘণ্টার মধ্যেই একই হাসপাতালে স্ত্রী ফজিলতের মৃত্যুর সংবাদ আসায় পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
ঘটনা-কালক্রম ও পরিবারের পরিচয়
স্থানীয় এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার মুরাদপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় হঠাৎ গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খোকন সরকার ও ফজিলত বেগম গুরুতর দগ্ধ হন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬ টায় খোকন সরকার মারা যান।
| অনুষ্ঠান/ঘটনা | তারিখ/সময় |
|---|---|
| অগ্নিকাণ্ড | গত শুক্রবার রাত ~১১টা (নারায়ণগঞ্জ) |
| খোকন সরকারের মৃত্যু | মঙ্গলবার (১১ আগস্ট), সন্ধ্যা ৬টা (ঢামেক) |
| খোকনের জানাজা ও দাফন (দেবিদ্বার) | বুধবার (১২ আগস্ট), সকাল ১০টা |
| ফজিলত বেগমের মৃত্যু ও দাফন | বুধবার (১২ আগস্ট), বিকেল ৪টা মৃত্যু; বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জানাজা ও কবরস্থ |
দুই জনই কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের উজানীকান্দি গ্রামের উত্তরভূমি। খোকন চট্টগ্রাম–কুমিল্লা এলাকার নয়, তিনি মরহুম আব্দুল গয়ফুরের দ্বিতীয় ছেলে। ফজিলত বেগম উজানীজোড়ার নানু মিয়া খন্দকারের মেয়ে। তাদের দুই সন্তান—ইউসুফ সরকার (২০) ও খাদিজা আক্তার (১৮)।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি
খবর পেয়ে গ্রামবাসী ও স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় জমান। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা শোকাচ্ছন্ন। খোকন সরকারের দাফন দেবিদ্বারে সম্পন্ন হলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা কাঁদতে থাকেন। দুঃসময়ে প্রশাসন পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা এই ঘটনাকে মর্মান্তিক বলে অভিহিত করে বলেন:
“অগ্নিকাণ্ডে দেবিদ্বারের দুই পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এই কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারটির পাশে উপজেলা প্রশাসন থাকবে। তাঁদের সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা বলছিলেন, পোশাকশ্রমিকদের ভাড়া বাসায় বসবাস ও কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা সংক্রান্ত মৌলিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। দম্পতির একসঙ্গে চলে যাওয়া তাদের দুই সন্তান ও সম্প্রদায়ের জন্য বড় ধাক্কা।
প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
এই ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে কয়েকটি তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা জরুরি হয়ে উঠেছে:
- এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকা শ্রমিকদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানো এবং গ্যাস লিকেজ নির্ণয়ের নিয়মিত তদারকি।
- জরুরি বাড়তি চিকিৎসা ও সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রক্রিয়া দ্রুততর করা।
- পরিবারের দু’বছরের অনুকূল পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ সংস্থার সমন্বয়।
ঘটনাস্থল ও পরিবারের প্রতিবেশীরা জানায়, স্থানীয় স্তরে মৃতদ্বয়ের নিয়মিত কাজ ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে যাতে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা পৌঁছানো যায়। স্থানীয় এনজিও ও সামাজিক সংগঠনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এই দম্পতির করুণ মৃত্যু কুমিল্লার দেবিদ্বারবাসীর কাছে গৃহস্থালি নিরাপত্তা, শ্রমজীবীদের অবস্থান ও দ্রুত সরকারি সহায়তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কবে এবং কিভাবে করা হবে—এটাই এখন স্থানীয় জীবিকাভিত্তিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।