খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু প্রবণতা গুরুতরভাবে বজায় রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগীয় হাসপাতালে নতুনভাবে ২৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১৮৮ এবং বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৮ জন। একই সময়কালে বিভাগে ডেঙ্গু সংক্রমণে নতুন করে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে চলতি বছরের মোট শনাক্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪।
বিভাগীয় ও জেলাভিত্তিক চিত্র
এই বছরের প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা রিপোর্ট হয়েছে ১২,৩০২। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০,৮১৮ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ১,১৪১ জন রোগী। অধিক জটিল বা উন্নত চিকিৎসার জন্য মোট ২৯৯ রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খুলনা জেলায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এখানে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৪,৬৬২ জন রোগী। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেকর্ডে রয়েছে ২,৫৬১ জন ডেঙ্গু রোগী—যে সংখ্যাটি হাসপাতালের কেবল নিজস্ব শনাক্তকরণকে বোঝায়।
স্বাস্থ্যসেবা ও নির্বাহী প্রস্তুতি
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে রোগী ভর্তি চলমান থাকায় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ পড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে—তাদের বয়স বা স্থান সম্পর্কিত বিশদ তথ্য সংবাদ সংগ্রহে পাওয়া যায়নি; তবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নজিরবিহীন না হলেও উদ্বেগজনক বলেই মূল্যায়ন করছে।
বর্তমান রেকর্ডগুলো নির্ভরতাসূচক: যেসব রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকে বিশিষ্ট চিকিৎসা-সহায়তা প্রয়োজন করায় অন্য জেলা বা উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ও হাসপাতালে থাকা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িঘরে দিনের আলো ও সন্ধ্যার সময় মশাবংশস্থল চিহ্নিত করে নষ্ট করার কাজ চালাচ্ছেন।
- গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি: ২৭৬
- সরকারি হাসপাতালে ভর্তি: ১৮৮
- বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি: ৮৮
- গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ৫
- চলতি বছরের মোট আক্রান্ত: ১২,৩০২
| ধরন | সংখ্যা |
|---|---|
| গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি | ২৭৬ |
| সরকারি হাসপাতাল | ১৮৮ |
| বেসরকারি হাসপাতাল | ৮৮ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু | ৫ |
| চলতি বছর মোট আক্রান্ত | ১২,৩০২ |
| চলতি বছর মোট মৃত্যু | ৪৪ |
স্থানীয় প্রভাব ও সাধারণ মানুষকে করণীয়
উচ্চ সংখ্যক রোগী এবং মৃত্যুর খবর সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করেছে। ডেঙ্গু হলে প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো প্রচলিত জ্বরনাশক না নেওয়া, প্রচুর তরল গ্রহণ ও শারীরিক কালোচিহ্ন বা রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা দিচ্ছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণভাবে অনুসরণীয় কয়েকটি উদ্যোগ নিম্নরূপ:
- বাড়ির আশপাশে জল জমে না থাকে—ব্লক করা পাত্র, টায়ার বা কুলায়ে পানি সরান।
- সংক্রমণের সময় মশার কামড় থেকে বাঁচতে রাতের সময়ে ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রাখুন বা জালাপাটি ব্যবহার করুন।
- জ্বর বা শরীরের ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; নিজের সঠিক তথ্য দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ—জনগণ যেন দ্রুত কোনো লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে যোগাযোগ করে এবং পারিবারিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদফতর মশা নিধন কার্যক্রম ও দ্রুত রোগী সনাক্তকরণে কাজ বাড়িয়েছে।
বর্তমান সময়টি স্বাস্থ্যগতভাবে সংবেদনশীল থাকার: নমুনা ও রোগী নিরীক্ষা অব্যাহত রেখেই দ্রুত প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। খুলনা অঞ্চলের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো এই মুহূর্তে রোগীর সংখ্যা ও জটিলতার ধরন নজরদারি করছেন—তারপরও জনসাধারণের সহায়তা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।