সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশু মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ। সঙ্গে করে বিভাগে গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হাম ও হাম‑উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৫ হয়েছে।
মৃত শিশুর পরিচয় ও হাসপাতালে情况
সিলেটের এম এ জি ওসমানী সরকারি হাসপাতালে শনিবার সকাল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ওই দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। একজন শিশু ৯ মাস ২২ দিন বয়সী পারভেজ, তিনি হবিগঞ্জ জেলা, নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের ছেলে। অপর শিশুটি এক বছর ছয় মাস বয়সী সাদিয়া, তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলার কামাল উদ্দিনের কন্যা।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম সংবাদে পরিবার ও হাসপাতালের রেকর্ড বিবেচনায় এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভাগীয় তথ্যও ভাগ করেছেন।
“রোববার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম‑উপসর্গ নিয়ে ৪৪৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন,”
বিভাগীয় চলমান রোগসংখ্যা ও পরীক্ষার ফল
শুধু মৃতের সংখ্যাই ছিল উদ্বেগজনক নয়; সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১১ জন নতুনভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই শিশু ও কিশোর। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভাগে মোট মৃতের মধ্যে দশজনের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে; বাকিরা রোগীর উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগী (বিভাগীয়) | ৪৪৭ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি | ১১১ |
| বিভাগীয় মোট মৃত্যুর সংখ্যা | ১৯৫ |
| ল্যাবরেটরিতে হাম শনাক্ত (বছর শুরু থেকে) | ১,১১৫ |
গ্রামের পরিবার ও স্থানীয় প্রভাব
হবিগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের পরিবারগুলোতে এই মৃত্যু দুটির পরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ক্লিনিক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পায়, ফলে সাধারণ রোগীর সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, শিশুদের পরিবারের ওপর মানসিক চাপ ও চিকিৎসার খরচ বাড়ছে।
সাধারণ মানুষদের জন্য জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা — দ্রুত জ্বর, পেটে ব্যথা, বমি বা হলুদ চোখ দেখা দিলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসেবা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত শিশুরা দ্রুত সংকটময় হতে পারে বলেই সতর্ক করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য সেবা ও পরীক্ষা‑নিরীক্ষা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে আক্রান্ত শনাক্তকরণ চলছে, তবে সব মৃতের ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ করা হয়নি। নূরে আলম শামীম বলেন, ল্যাবপরীক্ষা ও রোগতত্ত্ব বিশ্লেষণ বাড়ানো হচ্ছে যাতে প্রকৃত সংক্রমণের চিত্র স্পষ্ট করা যায় এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
- জরুরি মানদণ্ড: জ্বর, পেটে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, চোখের বা ত্বকের হালকা হলুদ ভাব দেখা গেলে চিকিৎসা নিন।
- শিশুদের জন্য বিশেষ সতর্কতা: পানি খাওয়ার পরিমার্জন, খাদ্যপরিষ্কার, হাত ধোয়া অনিবার্য।
- হাসপাতালে যোগাযোগ: এম এ জি ওসমানী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিশেষ হোল্ডিং ব্যবস্থা রয়েছে।
পরবর্তী করণীয় ও প্রশাসনিক ভূমিকা
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত প্রস্তুতি এবং রোগীদের বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা বলিয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন চালানোর পরিকল্পনা চলছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে পরিষ্কার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা জোরদার করা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।
এই ঘটনাসমূহের প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শিশুদের সময়মতো চিকিৎসালাভ করানো ও রোগের উৎস দ্রুত শনাক্ত করার উপর গুরুত্ব দিতে বলা হচ্ছে। সঠিক তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তি দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।