রাজপ্রাসের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো রবিবারের পরের দিন, মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের একদিনের সফরে আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জেলা প্রশাসন, সিটি ও পুলিশ প্রশাসন মিলিতভাবে সফরের নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
সফরের সূচি ও প্রধান অনুষ্ঠান
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সিলেটে পৌঁছানোর পর প্রথমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলো — হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে বিকেল ৩টা-তে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন। ওই সংবর্ধনা শেষে প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।
| সময় | কার্যক্রম |
|---|---|
| দুপুর (আগে) | হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত |
| বিকেল ৩টা | সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা |
| সন্ধ্যা | ঢাকায় প্রত্যাবর্তন |
প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসন একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সংবাদে উদ্ধৃত সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, মাজার ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ নিয়মিত করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে এসব কাজকে আরও ত্বরান্বিত করা হয়েছে। তারা সফরকে ঘিরে কোন ধরনের ঘাটতি থাকতে দেবে না বলেও উল্লেখ করেছেন।
“রাষ্ট্রপতির সফরকে সামনে রেখে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না সিটি করপোরেশন।”
শহরের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও দর্শনীয় স্থানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সফরের আগে শনিবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) একটি সমন্বয় সভা করেছে। সভার সভাপতিত্ব করেন এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানবাহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ও জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের দিকগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
- আইনশৃঙ্খলা: গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের পারিপার্শ্বিক নিরাপত্তা বাড়ানো।
- ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: যান চলাচল সীমিত বা পুনঃনির্ধারণের নির্দেশনা প্রয়োগ করা হতে পারে।
- গোয়েন্দা ও সমন্বয়: বিভিন্ন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাস্তবসম্মত সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও প্রস্তুতিমূলক কাজ
সিসিক প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাজার এলাকা ঘুরে সফরের প্রস্তুতি ও চলমান উন্নয়নকাজ পর্যবেক্ষণ করেছেন। মাজার সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পথসজ্জা ও দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে সিসিক সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনের তদারকিতে মেলার মাঠ, প্রবেশপথ, পার্কিং জোন ও জরুরি সেবা কেন্দ্র ঠিক রেখে স্বাচ্ছন্দ্যজনক দর্শন ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উচ্চ শ্রেণির নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও সদস্য মোতায়েন সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে।
সাধারণ মানুষ ও সফরের প্রভাব
রাষ্ট্রপতির সফর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সঞ্চালনে অস্থায়ী বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে — বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রীয় রাস্তাগুলোতে যানজট ও প্রবেশ বিধিনিষেধের সম্ভাবনা আছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি জনসাধারণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং জরুরি ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত না করার নির্দেশ আছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে এই সফর স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনিক অঙ্গনকে কেন্দ্র করে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে; তবুও প্রশাসনিক উত্তরণ ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা যাতে নির্বিঘ্নভাবে কার্যকর হয়, সেটি তাদের প্রধান লক্ষ্য বলা হচ্ছে।
সিলেটবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও যানজট বিষয়ক সরকারি নির্দেশনা মনোযোগ সহকারে দেখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতির একদিনের সফর শান্তিপূর্ণ ও সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে।