সিলেটে পুলিশের ইউনিফর্ম পরে পূজামণ্ডপের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে গান পরিবেশনের অভিযোগে একজন সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম স্বাক্ষরিত আদেশের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।
ঘটনার সময় ও স্থান
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে সিলেটের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত আখালিয়া নতুনবাজার এলাকার ব্রাহ্মণশাসন সার্বজনীন পূজামণ্ডপে এ এসআই উজায়ের ফারুক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি পুলিশের ইউনিফর্ম পরে মঞ্চে উঠে গান পরিবেশন করেন।
প্রতিবেদিত ভিডিও ও পদক্ষেপ
ঘটনাস্থলেই কোনো আপত্তি স্থাপিত হওয়া বা স্থানীয় প্রশাসনের নোটিশ জারি করার তথ্য সংবাদ সূত্রে পাওয়া যায়নি; তবে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে অফিসিয়ালভাবে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করে ক্লোজড করা হয়।
- অভিযুক্ত কর্মকর্তা: উজায়ের ফারুক (এসএআই), জালালাবাদ থানা-সংযুক্ত
- প্রশাসনিক ব্যবস্থা: ক্লোজড ও পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত
- তদন্ত অবস্থা: ঘটনার তদন্ত চলছে; তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে
"সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।" — জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুল হাবিব
নির্বাহ ও দায়িত্ববোধের প্রশ্ন
স্থানীয়দের জন্য এমন ঘটনা পুলিশের কাছে দায়িত্ব ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পুলিশ ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনের জন্য প্রত্যাশিত আচরণ নির্ধারিত থাকে—সেই মানদণ্ডকে কেন্দ্র করে এ ধরণের কর্মকাণ্ডকে অনুপযুক্ত হিসেবে দেখা হয়। ঘটনার পর ক্লোজড করা হওয়ায় সাময়িকভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯ অক্টোবর (সোমবার) | আখালিয়া নতুনবাজার ব্রাহ্মণশাসন পূজামণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুলিশ ইউনিফর্মে গান পরিবেশন |
| ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) | সিএমপি কমিশনারের আদেশে উজায়ের ফারুককে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত |
বর্তমানে জালালাবাদ থানার ওসি মোহাম্মদ শামসুল হাবিব জানান, ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্তভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
সিলেটবাসী, বিশেষ করে পূজোৎসব উদযাপনকারী কমিউনিটির মাঝে এ ধরনের ঘটনার প্রতিক্রিয়া নানা রং ধারণ করতে পারে—কেউ আইনগত শৃঙ্খলার দাবি জানাতে পারেন, আবার কেউ পুলিশ ও কমিউনিটির মধ্যকার সম্পর্ক বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন। স্থানীয়রা আশা করবেন তদন্ত স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং প্রয়োজনে অনুপযুক্ত আচরণের বিরুদ্ধে ন্যায্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে নিয়েছে—ঊর্ধ্বতন পদস্থ কর্মকর্তারা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নিয়োগগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সিলেটের পুলিশের রোস্টার ও দায়িত্ববন্টন, পূজা উদযাপনকালে নিরাপত্তা সমন্বয় এবং এ ধরনের ঘটনার ভবিষ্যৎ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে পাঠককে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হবে।