সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্য বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে। মৃত শিশুদের সবাই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মৃতদের পরিচয় ও হাসপাতালের পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মারা যাওয়া তিন শিশুর নাম ও বয়স হলো—দোয়ারাবাজারের ময়নুল ইসলামের কন্যা সামিহা (৩ বছর ৮ মাস), দিরাইয়ের প্রদ্যুতের কন্সন পরশ (৭ মাস) এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পূর্ব জালালপুর এলাকার ইব্রাহিম আলীর কন্যা ইলমা (১ বছর ৮ মাস)।
অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৮। একই সময়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে মোট ৫১৮ রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিসংখ্যান—সংক্ষিপ্ত চিত্র
| পরিমাপ | সংখ্যা |
|---|---|
| গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশু | ৩ |
| সর্বমোট হাম উপসর্গে মৃত | ১৬৮ |
| বর্তমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন | ৫১৮ |
| ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) রোগী | ১,০৪৪ |
নতুন শনাক্ত ও ভর্তি
গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে কেউ কনফার্মড হননি; তবে এই সময়ে ১৯৩ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ১০ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী ছিল, বাকিরা এখনো সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত।
"হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৯৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ১৬৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে," — সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।
স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ও জনসচেতনার প্রয়োজন
এই মুহূর্তে হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণশীল উপসর্গ নিয়ে রোগীর চাপ বেড়েছে, যা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। শিশুরা সংক্রামক রোগে ঝুঁকিতে বেশি থাকে, বিশেষত টিকাকরণ সম্পূর্ণ না হলে বা পুষ্টির অভাব থাকলে।
- যারা জ্বর, কাশি বা নিঃশ্বাসজনিত সমস্যায় ভুগছে তাদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।
- শিশুদের ন্যূনতম টিকাকরণ ইতিহাস যাচাই করুন এবং টিকাদান কেন্দ্র থেকে পরামর্শ নিন।
- হাত ধোয়া, বল বিকৃত নয় এমন কাশির ভঙ্গি (কৌশিক কভারিং) ও ভিড় এড়ানো—এগুলো সংক্রমণ রোধে কার্যকর।
কীভাবে স্থানীয়রা সহযোগিতা করতে পারেন
স্বাস্থ্যকর্মী এবং হাসপাতালগুলোকে সহায়তা করতে হলে স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিওরা তাত্ক্ষণিকভাবে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে পারে—বিশেষ করে খাদ্য ও ঔষধ সরবরাহ, আইসোলেশন ব্যবস্থা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
এই রিপোর্টে ব্যবহৃত সকল পরিসংখ্যান ও নাম সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্য এবং সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগী তালিকার উপর ভিত্তি করে। বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল; রোগীরা ভর্তি ও ছাড়াপ্রাপ্তির তথ্য আপডেট হতে পারে।
সার্বিকভাবে, হাম উপসর্গ বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে কার্যকর জনসচেতনতা, দ্রুত রোগনির্ণয় এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ত্বরিত চিকিৎসা—এই তিনটি উপাদানই নির্ণায়ক। স্থানীয় জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে শিশুর অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা ক্রমবর্ধমান দুর্বলতার লক্ষণ দেখা মাত্র হাসপাতালে জরুরি যোগাযোগ করার জন্য।