স্বাস্থ্য মাদারীপুর সদর মাদারীপুর (07)

মাদারীপুর জেলায় শিশু ওয়ার্ডে ভয়াবহ শয্যা সংকট, ৪০ শয্যায় ভর্তি ১৩৩ শিশু

মাদক নয়—শ্বাসকষ্ট ও জ্বরের রোগী বাড়ায় মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা ও জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালের ৪০টি শয্যায় বর্তমানে ভর্তি ১৩৩ শিশু; অনেককে মেঝেতে ফোম-মাদুর বিছিয়ে রাখা হচ্ছে।

মাদারীপুর জেলায় শিশু ওয়ার্ডে ভয়াবহ শয্যা সংকট, ৪০ শয্যায় ভর্তি ১৩৩ শিশু
©অলংকরণ ডা. শারমিন আক্তার / we-news.com

মাদারীপুর জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৪০টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ১৩৩ শিশু. অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে একেকটি শয্যায় দুই থেকে তিন শিশুকে থাকতে হচ্ছে। বেশি রোগীর কারণে জায়গার অভাবে বহু শিশুকে মেঝেতে ফোম ও মাদুর বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

রোগীর ধারা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার চাপ

হাসপাতাল সূত্রে জানায়, জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা, শহর ও গ্রামের রোগীরা চিকিৎসার জন্য এখানে আসায় শিশু ওয়ার্ডে প্রতিনিয়ত রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের সঙ্গে তাদের মায়েদেরও থাকা প্রয়োজন হওয়ায় শয্যা সংকট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।

চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। রোগীর আনাগোনা এবং সীমিত শয্যা ও জনবল—এই তিনটি কারণে চিকিৎসা সেবায় ব্যাঘাত দেখা যাচ্ছে বলে হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছে।

রোগী ও অভিভাবকদের অভিযোগ

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের আবেগপ্রবণ অভিভাবকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মাদারীপুর সদর উপজেলার পাচখোলা গ্রামের কামাল হোসেন জানান, তার চার বছর বয়সী ছেলে সিয়ামকে কয়েক দিন ধরে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভর্তি করেছেন। তিনি বলেন,

“একই শয্যায় তিন শিশুকে থাকতে হচ্ছে। এতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।”

আরেক অভিভাবক, কালকিনি উপজেলার খাশেরহাট গ্রামের শিউলি বেগম জানিয়েছেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তার তিন মাস বয়সী শিশুকে ভর্তি করেছে। তিনি বলেন, একই বিছানায় তিন শিশুকে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে বলে বোঝা যাচ্ছে যে সমস্যা কতটা গুরুতর।

শয্যা ও জনবল—অবস্থা পরিসংখ্যান

হাসপাতাল পরিচালনায় জনবল ঘাটতিও বড় বাধা হিসেবে নামছে। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে কার্যক্রম মূলত ১০০ শয্যার জন্য অনুমোদিত জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যগুলোতে উঠে এসেছে।

পদের শ্রেণিমোট অনুমোদিত পদকর্মরতশূন্য
মোট১৯৭১৩৮৫৯
প্রথম শ্রেণি৫৬১৯৩৭
দ্বিতীয় শ্রেণি৬৮৬৭১
তৃতীয় শ্রেণি২৮২৩৫
চতুর্থ শ্রেণি৪৫২৯১৬

সূত্র জানাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসক স্থানে ৩৭টি শূন্যপদ রয়েছে যা জেলার মানুষকে মানসম্মত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করছে।

কী করছেন হাসপাতালের পক্ষ

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সচেতন যে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি; তবে সীমিত শয্যা ও ঘাটতি থাকা কর্মীর কারণে অস্থায়ীভাবে রোগী গ্রহণ বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো দ্রুত সমাধান নেই। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করা হলেও অল্পদিনে স্থায়ী জনবল এবং সেবা সম্প্রসারণ কার্যকর করা কঠিন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রাত্যহিক প্রভাব ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি

একাধিক শিশুকে এক শয্যায় রাখা এবং মেঝেতে চিকিৎসা করালে সংক্রমণ বিস্তার, চিকিৎসা সঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব না হওয়া, পুষ্টি ও অনুপ্রবেশে সমস্যা ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া মৃত্যুঝুঁকির রোগ; তাই পর্যাপ্ত শয্যা ও পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য।

  • তৎপরতা হিসেবে প্রয়োজন: অতিরিক্ত শয্যা ব্যবস্থা, জরুরি কেবিন বা আইসোলেশন ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ।
  • অভিভাবকদের করণীয়: অপেক্ষারত অবস্থায় শিশুদের ভ্যাকসিন-পরবর্তী যত্ন বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বজায় রাখা।
  • স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা: দ্রুত সংকট নিরসনে জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রকে আবেদন জানানো।

বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি দ্রুত সৃষ্ট শয্যা ও জনবল বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছে—নইলে শিশুদের চিকিৎসা সেবা ঝুঁকিতে পড়বে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ডা. শারমিন আক্তার
ডা. এআই স্বাস্থ্য সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ডা., WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

07মাদারীপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো মাদারীপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব