মাদারীপুরে অধিক মুনাফার আশায় কোল্ড স্টোরেজে দীর্ঘদিন মজুদ রাখা প্রায় ১৫ হাজার বস্তা আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী এসব আলুর মোট ওজন বরাবর প্রায় ২২,৫০০ মণ, যার আনুমানিক খুচরা মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা.
কী ঘটেছে—সংরক্ষণ ও পচনের সময়রেখা
কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার আব্দুল করিম জানান, এসব আলু ২০২৫ সালের মার্চে সেখানে আনা হয়। কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখার নিয়মিত সময়সীমা সাধারণত একেবারেই সীমিত—প্রায় দশ মাসের মধ্যে বাজারজাত করা স্বাভাবিক বলে বোঝানো হয়—তবে মালিকরা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় আলুগুলো আরও অনেক দিন ধরে স্টোরেজে রেখেই রাখেন। দীর্ঘঅবধি সংরক্ষণের ফলে আলুর তাপমাত্রা ও গুণগত মানে পরিবর্তন আসে এবং এক পর্যায়ে পচন ধরতে শুরু করে।
“দীর্ঘদিন স্টোরেজে থাকার কারণে আলুর তাপমাত্রাজনিত সমস্যা হয়েছে এবং আলুর মান নষ্ট হয়ে গেছে,”
ম্যানেজার আব্দুল করিম আরও জানান, জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধে গত দুই দিন ধরে এসব আলু স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
লোকাল বাজার ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা বলছেন, বিপুল পরিমাণ আলু মজুদের ফলে স্থানীয় সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। মাদারীপুর কাঁচামাল আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাসুদ তালুকদার দাবি করেন, বিনামূল্যে আলু বিতরণ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং কৃত্রিমভাবে দাম পতন হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দোকানদার ও আড়তদাররাও।
সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থান
কৃষি বিপণন অফিসের কর্মকর্তা রুবেল মিয়া বলেন, ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ করা পণ্যের নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিষ্ঠানের আইনি ব্যবস্থা সীমিত। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাজার সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে—এমনটাই তাদের পর্যবেক্ষণ।
স্থানীয় ও কোনো প্রভাব পড়ছে—কৃষক ও ভোক্তা দৃষ্টিকোণ
আলু নষ্ট হওয়া অংশ খোলা কোথাও ফেলে দিলে দুর্গন্ধ ও জনস্বাস্থ্যের সমস্যা হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রাজৈর ইউনিয়নের এক গ্রামবাসী আলী আহমাদ জানিয়েছেন, নষ্ট আলু মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়; তবে বাছাই করে যেগুলো সামান্য ভালো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো গরুর খাবার হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।
- নষ্ট আলুর পরিমাণ (প্রায়): ১৫ হাজার বস্তা
- ওজন (মোট): ২২,৫০০ মণ
- আনুমানিক মূল্য: প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা
| বিবরণ | মোট |
|---|---|
| বস্তার সংখ্যা | ১৫,০০০ (প্রায়) |
| মোট মণ | ২২,৫০০ (প্রায়) |
| আনুমানিক বাজার মূল্য | ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা (প্রায়) |
কেন দীর্ঘসংরক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ?
কোল্ড স্টোরেজ পদ্ধতি আলুর সঠিক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রেখে সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে। তবে একসাথে প্রচুর পরিমাণ আলু দীর্ঘ সময় রাখলে স্টোরেজের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে—যাঁরা পেশাদারভাবে স্টোর পরিচালনা করেন, তাঁরাও সময়সীমা মেনে চলার পরামর্শ দেন। আর যেসকল মালিকরা বাজার মূল্য ওঠার আশায় আলু আটকে রাখেন, তাদের জন্য পরিমাণগত ও আর্থিক ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পরবর্তী করণীয় ও স্থানীয় প্রত্যাশা
কোল্ড স্টোরেজ থেকে বিনামূল্যে আলু বিতরণ করা হচ্ছে বললেও ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে সরবরাহ বন্ধ থাকা ও বিনামূল্যে পণ্যের উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালিক বা স্টোর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে কৃষি বিপণন দফতর সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করেছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন ভবিষ্যতে আর এমন পরিস্থিতি না হয়—তাই স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা কঠোর করা, সময়মতো বাজারজাতকরণ ও কৃষক-আড়তদারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের নির্ধারিত আর্থিক ক্ষতি, পরিবেশগত ঝুঁকি ও স্থানীয় খাদ্য সরবরাহের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়ন করার প্রয়োজন পড়বে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধান না বের করলে সাধারণ ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেশি প্রভাবিত হবেন, এমন আশঙ্কাও আছে।