যশোর শহরের জেল রোডে অবস্থিত উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতাল-ে সিজারিয়ান অপারেশনের পর উর্মি খাতুন (বয়স উল্লেখ নেই) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুতে স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসা ত্রুটির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। মৃতার স্বজনেরা দাবি করেন, অপারেশনের পর তিনি সচেতন ছিলেন না এবং পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখা দিলে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়নি। পরে হাসপাতালে থেকেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, সেখানে পৌঁছানোর পর পরিবারের লোকজন জানেন যে তার মৃত্যু ওই আগেই ঘটেছে।
পরিবারের বক্তব্য ও অভিযোগ
মৃতক উর্মি খাতুন বাঘারপাড়া উপজেলার নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের স্ত্রী বলে জানানো হয়েছে। তার ভাসুর তুহিন হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন যে, ভর্তির সময় উর্মি সুস্থ ছিল। হাসপাতালের ভেতরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। তাদের দাবি, শল্যচিকিৎসার পরে উর্মির জ্ঞান ফিরে আসেনি এবং তারপর তার ক্ষতস্থল থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
“অপারেশনের পর থেকে তার জ্ঞান ফেরেনি। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হলে হাসপাতাল বিকল্প ব্যবস্থা না নিয়ে খুলনায় পাঠায়। খুলনায় গেলে জানতে পারি, অনেক আগেই তিনি মারা গেছেন”— নিহতের ভাসুর তুহিন হোসেন।
চিকিৎসকের অভিপ্রায় এবং প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
শল্যচিকিৎসা করেন বলে প্রতিবেদনে নাম উল্লেখ করা হয়েছে—ডাক্তার ফারহা দিবা। প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময় তাকে ফোন করে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কল রিসিভ করা হয়নি বলে সূত্রে বলা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বা হাসপাতাল পরিচালনার পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি (প্রতিবেদন প্রকাশের সময়)।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
| ঘটনার ধাপ | বিবরণ |
|---|---|
| ভর্তি | শনিবার সকালে উর্মি খাতুনকে সিজারিয়ানের জন্য উত্তরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। |
| অপারেশন | প্রায় ভর্তির ৩০ মিনিটের মধ্যেই চিকিৎসক (ফারহা দিবা) সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেন। |
| অববস্থা খারাপ | অপারেশনের পর উর্মির জ্ঞান ফেরেনি এবং ক্ষতস্থান থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। |
| রেফার ও মৃত্যু নিশ্চিতকরণ | সন্ধ্যায় হাসপাতালে থেকে তাকে খুলনায় রেফার করা হয়; খালনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা জানান যে তার মৃত্যুঘটনার সময় ক্রমান্বয়ে হয়েছিল—স্বজনরা জানান এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। |
পেশাগত ও নীতিগত প্রশ্ন
এই ঘটনার সংবাদভিত্তিক বিবরণ থেকে প্রকাশ্য প্রশ্নগুলো হলো—
- অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণে কি পর্যাপ্ত স্টাফ ও সরঞ্জাম ছিল?
- রক্তক্ষরণ শুরু হলে প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা (রক্ত পরিবেশন, পুনরায় অস্ত্রোপচার ইত্যাদি) কবে এবং কীভাবে দেয়া হয়েছিল?
- যদি হাসপাতালেই রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকে, তবুও তাকে রেফার করা কেন হয়েছে—এর কারণ কি সনাক্ত করা হয়েছে?
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর দায়িত্বে যে ধরনের অমসৃণতা দেখা দিলে তা রোগী ও পরিবারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলবেন যে জটিল প্রসবের পরে পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সাড়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পরবর্তী করণীয় ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
স্বজনরা চিকিৎসা ত্রুটির অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। যৌক্তিকভাবে এই ধরনের ঘটনার তদন্তের জন্য হাসপাতাল প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যার দাবি উঠবে। তদন্ত না হলে অপর্যাপ্ত চিকিৎসা, সিস্টেমগত ত্রুটি বা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে অনুরূপ ঘটনা পুনরাবৃত্তির শঙ্কা থেকে যায়।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পক্ষ থেকে তথ্য পেলে আপডেট দেয়া হবে।