যশোরে সারের ডিলার নিয়োগকে ঘিরে দলীয়করণ ও দুর্নীতির তীব্র অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, জেলার ৯৩টি ইউনিয়ন ও ৮টি পৌরসভায় ডিলারশিপ বরাদ্দে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের মূল বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে জমা দেওয়া লিখিত বক্তব্যে দলটির করা অভিযোগগুলো থেকে প্রধান পাওয়া যায়—উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্র ও জেলা বিএনপির নেতাদের সহায়তায় অবৈধভাবে লাইসেন্স অর্জন করেছেন; প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা সুবিধাবঞ্চিত হয়েছেন; এবং প্রশাসন সরকারদলীয় তালিকাকে চূড়ান্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
- দলীয় তালিকা ভিত্তিক নিয়োগ: জেলা প্রশাসক সরকারি দলের প্রদত্ত তালিকা চূড়ান্ত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- সততা ও যোগ্যতার অবহেলা: দক্ষতা বা পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব না দিয়ে ডিলারশিপ প্রদান হয়েছে বলে অভিযোগ।
- অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি: মাদক অভিযোগ, একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি ও নিষিদ্ধ ঘোষণা পাওয়া দলের কর্মী-সমর্থকরাও ডিলারশিপ পেয়েছে বলে দল দাবি করেছে।
কেউ শুনছেন না: এমপিদের সাহায্য অবহেলিত
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, যশোরের পাঁচটি আসনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও তাদের পরামর্শ বা সুপারিশ উপেক্ষিত রাখা হয়েছে। জামায়াতের পাঁচজন এমপি এমন অভিযোগ তোলেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
"ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা কিংবা পেশাদারিত্বের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি,"—জেলা জামায়াতে ইসলামীর লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও বাস্তবতার ফাঁক
সরকারি নিয়মে সার-বীজ মনিটরিং কমিটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সামাজিক, কৃষক ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা থাকলেও, সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে এই নির্দেশনা মানা হয়নি এবং শুধুমাত্র বিএনপি থেকে সদস্য নেওয়া হয়েছে। দলজনীয় এ ধরনের নিয়োগ কৃষক ও সুধী সমাজের আস্থা নষ্ট করছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
| বিষয় | জামায়াতের অভিযোগ |
|---|---|
| ভৌগোলিক ক্ষেত্র | ৯৩ ইউনিয়ন, ৮ পৌরসভা |
| প্রধান অভিযোগ | দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি |
| প্রতিবাদকারী নেতৃত্ব | অধ্যাপক গোলাম রসুলসহ ৫ এমপি ও জেলা নেতৃবৃন্দ |
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ আসনের এমপি মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৬ আসনের এমপি অধ্যাপক মুক্তার আলীসহ জেলা নেতারা। তারা কড়া ভাষায় বর্তমান প্রক্রিয়াকে নিন্দা জানিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে বর্তমান বরাদ্দ বাতিল করে যথাযথ নিয়ম মেনে প্রকৃত যোগ্য ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব দেয়া হোক।
এই অভিযোগ উঠেছে এমন সময়ে যখন সার সরবরাহ ও ডিলারশিপ স্থানীয় কৃষি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ডিলারশিপ বণ্টনে অনিয়ম থাকলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটতে পারে, কৃষকরা সঠিক সময়ে সার না পেলে সারের মূল্য ও ফসল উৎপাদনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। জামায়াত নেতৃবৃন্দের দাবি অনুযায়ী, এ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পুনর্বিবেচনা এবং স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আভাস দেওয়া হলো যে দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অবলম্বন না করলে স্থানীয় কৃষি ব্যবসায় এবং কৃষকের স্বার্থবান্ধব পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।