ঝালকাঠি শহরের কোর্ট রোডের একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা কক্ষটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা দেখা দিয়েছে। এই কক্ষে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা কার্যালয় উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই এমন আলোচনা বাড়ে।
দুই পক্ষের দাবি
ভবনের মালিক ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি লিয়াকত আলী তালুকদার-এর পরিবারের একজন সদস্য দাবি করেছেন, ওই তৃতীয় তলায় আগে জেলা শহর আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হত। মালিকের ছেলে মো. মিঠু তালুকদার বলেন, কয়েক বছর আগে কক্ষে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চলছে। পরে সেটি ব্যবহৃত না হওয়ায় ভাড়া দেওয়া হয়।
অন্যদিকে এনসিপির জেলা শাখার এক নেতার বক্তব্য আছে, তাদের দপ্তর হিসেবে কক্ষে ভাড়া নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে আগে কখনও আওয়ামী লীগের অফিস ছিল না। এনসিপির ঝালকাঠি জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল এই দাবি করেছেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানের শেতবস্ত্র
স্থানীয় সংবাদ সূত্র বলছে, সম্প্রতি ওই কক্ষে এনসিপি জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নাৎসরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. মাহমুদা মিতু, এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি ছিলেন উপস্থিত। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এইচ এম জাকির হোসেন।
মালিকপক্ষের ব্যাখ্যা
মো. মিঠু তালুকদার জানান, তৃতীয় তলার ওই কক্ষ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকত। এক পর্যায়ে সেখানে একটি বিমা প্রতিষ্ঠানের অফিস ছিল। প্রতিষ্ঠানটি চলে যাওয়ার পর কক্ষটি বেশিক্ষণ ব্যবহার ছিল না; পরে তিনি সেখানে পাখি রাখতেন। এরপরই কক্ষটি ভাড়া দেওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘চেষ্টা করেছি এখান থেকে কিছু অর্থ আয় করার। এ নিয়ে যে ঝামেলা হবে, তা আমরা বুঝিনি।’’
“চিন্তা করেছি, এখান থেকে কিছু অর্থ আয় হবে। এটি নিয়ে যে ঝামেলা হবে, তা আমরা বুঝতে পারিনি।”
স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির কিছুপুরাণ চিন্তাভাবনা উঠে এসেছে। ভবন মালিক ও তাদের রাজনৈতিক পরিচিতি—লিয়াকত আলী তালুকদারের পরিবারের মধ্যে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক সম্পর্ক—এখানে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তালুকদারের ছেলে মনিরুল ইসলাম তালুকদার ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত; পরিবারটি জেলা রাজনীতিতে সুপরিচিত ভূমিকা রাখে।
কী বলছে এনসিপি?
এনসিপির স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, কক্ষটি ভাড়া নিয়েছেন এবং সেখানে দলের জেলা কার্যালয় চালু করা হয়েছে। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আগে ওই স্থানে বিমা প্রতিষ্ঠানের অফিস ছিল; পরে তা ছেড়ে গেলে তারা সেটি ভাড়া নিয়েছেন। এনসিপি অনুশাসন অনুসারে তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে এবং স্থানীয় নেতারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় অপেক্ষা ও জনমত
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা রকম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—অফিসের শূন্যতা, মালিকানার দাবি, পারিবারিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক পরিচয় কিভাবে স্থানীয় রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রভাবিত করবে। যদিও পক্ষ দুটির ব্যাখ্যা ভিন্ন, কিন্তু বিষয়টি এখন স্থানীয় রাজনীতির আলোচ্যসূচিতে উঠে এসেছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
- স্থান: ঝালকাঠি শহর, ৭ নম্বর কোর্ট রোডের একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলা।
- ঘটনা: তৃতীয় তলার একটি কক্ষকে এনসিপি জেলা কার্যালয় হিসেবে উদ্বোধন।
- বিবাদ: ভবন মালিকপক্ষের দাবি—প্রথমে ওই কক্ষে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল; এনসিপি নেতারা দাবি করেন আগে সেখানে আওয়ামী লীগের অফিস ছিল না।
| বিষয় | মালিকপক্ষ | এনসিপি পক্ষ |
|---|---|---|
| অতীত ব্যবহার | একসময় পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত | কখনো আওয়ামী লীগের অফিস ছিল না; পরে ভাড়া নেওয়া হয়েছে |
| বর্তমান ব্যবহার | ওই কক্ষটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে | এখন কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার |
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পরিণতি স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যকলাপে কী ধরনের ছাপ ফেলবে—তার যথাযথ মূল্যায়ন সময় এবং আরও বিবরণী রিপোর্টিং এর ওপর নির্ভর করবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আরও বক্তব্য সংগ্রহ করে আপডেট দেব।