বাংলাদেশ ঝালকাঠি ঝালকাঠি (37)

ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় ঝালকাঠির ৩,২৯৪ জেলে সরকারী সহায়তা থেকে বাদ, দিনাদিন দুরবস্থার শুরু

ইলিশ আহরণে ২২ দিনের বিধিনিষেধে ঝালকাঠির ৭ হাজার ৪৯৪ জন জেলের মধ্যে মাত্র ৪ হাজার ২০০ জনই ২৫ কেজি চাল পেয়েছেন; বাকি ৩,২৯৪ জনকে সহায়তা থেকে বাদ পড়ায় তারা ঋণ চাপ ও দৈনন্দিন জীবনে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছেন।

ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় ঝালকাঠির ৩,২৯৪ জেলে সরকারী সহায়তা থেকে বাদ, দিনাদিন দুরবস্থার শুরু
©অলংকরণ সাবরিনা হক / we-news.com

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় ঝালকাঠির নৌকার মেরুকরণ ও জেলেদের আয় বন্ধ হয়ে পড়েছে। জেলার মোট ৭,৪৯৪ জন জেলে এই নিষেধাজ্ঞায় সরাসরি কর্মহীন হয়েছেন। সরকারি পুনর্বাসন সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত চাল পেয়েছেন মাত্র ৪,২০০ জন; ফলে এই দফায় ৩,২৯৪ জন জেলে সহায়তা থেকে বাদ পড়েছেন—যা তাদের জীবিকা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে।

জেলেদের অভিযোগ ও দৈনন্দিন সঙ্কট

জেলেরা বলছেন, চলতি মৌসুমে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগ থেকেই তাদের আয়ে পতন এসেছে। আর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সেটিকে আরও বিপুল করেছে। নৌকা ও জালসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম রেখে ঘাটে ফিরে গ্রামগুলোতে এখন নীরবতা বিরাজ করছে।

“সরকার ২৫ কেজি চাল দিয়েছে, কিন্তু আর কোনো সহায়তা দেয়নি। ২২ দিন শুধু চাল দিয়ে কীভাবে সংসার চলবে?” — শিখা রানী, ঝালকাঠি সদর উপজেলার জেলে পাড়া।

শিখা রানী বলেন, ভাত ছাড়া সংসার চলে না; কিন্তু চালের সঙ্গে তেল, ডাল, আলু ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাবের কথা বিবেচনা করা হয়নি। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ধর্মীয় উৎসবও পড়েছে; উৎসবে পরিবারের জন্য কিছু কেনাও সম্ভব হয়নি।

আরেক জেলে মো. করিম বলেন, তারা যেন “জেলে বন্দী” হয়ে পড়েছেন—কোনো কাজ করতে না পেরে ঋণের কিস্তি ও দৈনন্দিন খাবার জোগাড়ের চাপ বেড়ে গেছে। রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের বিষখালী নদীর জেলে মো. আফজালও একই চিত্র বর্ণনা করেছেন।

স্থানীয় চাহিদা ও সরকারের সহায়তা — সীমাবদ্ধতা কোথায়?

সরকারি নির্দেশনায় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে। এই নীতিগত সিদ্ধান্তের পক্ষে বায়ুষ্ট বৈজ্ঞানিক যুক্তি থাকলেও বাস্তবে দুর্বল দিকগুলো দেখা দিয়েছে—বিশেষ করে যারা অনুর্ধ্বিক সহায়তার আওতায় পড়েননি তাদের ক্ষেত্রে।

  • প্রধান সমস্যা: সহায়তার অসম বণ্টন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অনুপস্থিতি।
  • ঋণের চাপ: নৌকা মেরামত ও জাল কেনার কিস্তি পরিশোধের দাবি আছে, যা এই সময়ে দায় বেড়ে দেয়।
  • বিকল্প আয়ের অভাব: সরকারি তরফ থেকে বিকল্প কর্মসংস্থানের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারগুলোর খরচ চলমান রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংখ্যায় ভোট দিলে পরিস্থিতি

আইটেম সংখ্যা
মোট জেলে (ঝালকাঠি) 7,494
চাল পেয়েছেন 4,200
সহায়তা থেকে বাদ পড়েছেন 3,294

স্থানীয় প্রস্তাবনা ও প্রত্যাশা

জেলেরা সরকারকে অনুরোধ করেছেন:

  • নিষেধাজ্ঞার সময় ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা হোক।
  • চালের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য—তেল, ডাল, আলু ইত্যাদিরও সহায়তা দেওয়া হোক।
  • এই সময়কার জন্য সাময়িক বিকল্প কর্মসংস্থান বা ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করা হোক।

স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য দফতর থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়ার কথা প্রতিবেদনের সূত্রে পাওয়া যায়নি। তবে মৎস্য সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে সমন্বয়ে স্থানীয় জনগণের সহায়তা বাড়াতে সরকারের দিকে উল্লেখযোগ্য চাপ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ঝালকাঠির জেলেরা সংরক্ষণমূলক এই পদক্ষেপকে অঙ্গীকার করে যদি সরকারের সহায়ক ব্যবস্থাগুলো সময়মতো পায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে ইলিশের উৎপাদন ও জেলেদের আয়—উভয়ই টেকসইভাবে বজায় রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় ছোট আয়ের এই সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও সংকুচিত হবে বলে স্থানীয়রা ভয়ে জানান।

প্রধান স্থানগুলো: ঝালকাঠি সদর, রাজাপুর (বড়ইয়া ইউনিয়ন), বিষখালী ও সুগন্ধা নদী—এই কর্মহীনতার চিত্র এখান থেকেই উঠে এসেছে।

সাবরিনা হক
সাবরিনা এআই বাংলাদেশ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি সাবরিনা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

37ঝালকাঠি

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো ঝালকাঠি, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব