কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোবিন্দপুর চার মাইল এলাকায় রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান সিএনজি অটো-রিকশাকে সামনে থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই এক ব্যক্তি নিহত হন এবং আরও চারজন আহত হন। মৃতব্যক্তির পরিচয় জানা গেছে—তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ জাকারিয়া (২৩)।
দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও আহতদের তথ্য
স্থানীয় ও চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, সিএনজি অটোতে চারজন যাত্রী ছিলেন। অটোচালক কুষ্টিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে মেহেরপুরের গাংনী যাওয়ার পথে গোবিন্দপুর চার মাইল এলাকায় গতিশীল একটি কাভার্ড ভ্যান সামনের দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে গুরুতরভাবে আহত হন জাকারিয়া; পরে তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত চারজনের মধ্যে পরিচয় পাওয়া তিনজনের নাম-ঠিকানা নিম্নরূপ:
- সিএনজি অটোচালক: মনিরুল ইসলাম (চালের সময় অটোর মধ্যেই আহত)
- যাত্রী: রেবেকা খাতুন (৪২), গাংনী শহরের থানাপাড়া, মেহেরপুর
- যাত্রী: তামান্না (২০), রেবেকার পুত্রবধু, গাংনী শহরের থানাপাড়া, মেহেরপুর
“আমি কুষ্টিয়া শহর থেকে চারজন যাত্রী নিয়ে গাংনী যাচ্ছিলাম। গোবিন্দপুরে একসঙ্গে দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান সামনে থেকে ধাক্কা দেয়”— আহত সিএনজি চালক মনিরুল ইসলাম।
হাসপাতালে চিকিৎসা ও প্রাথমিক আইনগত কার্যক্রম
ঘটনাস্থল থেকে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের চিকিৎসক সেখানে জাকারিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন; আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য প্রাথমিক তদন্ত চলছে।
| নাম | বয়স / পরিচিতি | ঠিকানা |
|---|---|---|
| আবু সাঈদ জাকারিয়া | ২৩, ছাত্রদল নেতা | দৌলতপুর উপজেলার বড়গাংদিয়া |
| মনিরুল ইসলাম | অটোচালক | — |
| রেবেকা খাতুন | ৪২ | গাংনী, থানাপাড়া |
| তামান্না | ২০ | গাংনী, থানাপাড়া |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
নিহতের পরিবারের সদস্য ও ছাত্রদলের সহকর্মীরা ঘটনার খবর পেয়ে আতঙ্ক ও শোক প্রকাশ করেছেন। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রদের মধ্যে এই ঘটনাটি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা সড়কের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক যানবাহন ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।
গোবিন্দপুর চার মাইল অংশটি কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি ব্যস্ত সেকশন। এলাকাবাসীর কথায়, মহাসড়কে দ্রুতগতিতে যান চলাচল থাকে; ফলে আশপাশের পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে এমন অভিযোগও আছে।
কী করা যেতে পারে: নিরাপত্তার দিক থেকে করণীয়
স্থানীয় প্রশাসন এবং ট্রাফিক বিভাগকে কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ সক্রিয়ভাবে জানান স্থানীয়রা:
- মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে স্পিড ব্রেকার ও রোড সাইন বসানো।
- নিয়মিত পুলিশ পেট্রোল ও গতিসীমা পরিদর্শন বাড়ানো।
- জরুরি এলাকায় আলো ও পরিচ্ছন্ন শারীরিক উপায় চালু রেখে রাতে ও ঝলসে চলাচল নিরাপদ করা।
মিরপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ ধরে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রকৃত ঘটনার তদন্ত নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে। আইনগত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যান ও চালককে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—ওসি শহিদুল ইসলামের ভাষ্যে।
এই দুর্ঘটনা কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। নিহতের পরিবার, সহপাঠী ও স্থানীয়রা দ্রুত বাস্তবিক পদক্ষেপ আশা করছেন যাতে একই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে রোধ করা যায়।