কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামে এক বৃদ্ধা নারীকে বাড়ি থেকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৬৫ বছর বয়সী নুর জাহান বেগমকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পুলিশ ও পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান।
পরিবারের বক্তব্য ও মামলার পটভূমি
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নুর জাহান ও তাদের গুদামে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নুর জাহান ছয়দিন আগে, ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্থানীয় দলের কিছু নেতাসহ মোট ২২ জনের নাম উল্লেখ করা আছে এবং ১৫–৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তুলনা ও অভিযোগ
নুর জাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার (শিল্পী) অভিযোগ করেন, মামলাটি করার পর থেকে তাদের পরিবারের ওপর চাপ ও হুমকি বাড়তে থাকে। রোববার সকালে পুলিশের একটি যৌথ দল তাদের বাড়িতে আসে এবং মায়ের কাছে বলে—ওসি সাহেব তার সাথে কথা বলবেন, তাদের সঙ্গে যেতে বলার পর কয়েকজন নারী পুলিশ নুর জাহানকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরিবার এখন জানে না তাঁর মাকে কোথায় রাখা হয়েছে।
“আমরা জানতে পারছি না মা কোথায় আছেন। বাড়িতে আমাদের অটিজম আক্রান্ত ১৫ বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে। মা ও আমরা তিন জন বাড়িতে ছিলাম—হঠাৎ পুলিশ এসে মাকে নিয়ে গেল,”
শিল্পী আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ও পক্ষপাতের মাধ্যমে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি স্থানীয় বিএনপি ও কিছু আওয়ামী লীগ নেতার নাম উচ্চারণ করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে দলের কিছু লোকও জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পরিবার।
অনেক প্রশ্ন, পুলিশ বক্তব্য সংক্ষিপ্ত
নুর জাহানের ছেলে রুহুল আমিন জানান, তিনি চাকরি করেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। তিনি দাবি করেন, তাদের বাড়ি ও গুদামে আগুন দেয়া হয়েছে, সেই ঘটনার জন্য কিছুকাল ধরে তিনি পলাতক আছেন। রুহুল বলেন, “পুলিশ আমার বৃদ্ধ মাকে ধরে নিয়ে গেছে। তাঁর কোনো খবর পাচ্ছি না।”
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মামুনুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বাইরে আছেন এবং একটি খুন সংক্রান্ত অভিযানে ব্যস্ত। থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে—এমনটাই তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া।
- ঘটনার তারিখ: ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর (থানায় নেওয়া)
- মামলা দায়ের হয়েছে: ২১ সেপ্টেম্বর, কুষ্টিয়া আদালতে
- মামলায় নাম থাকা ব্যক্তির সংখ্যা: ২২ জন (নামজদ) ও ১৫–৩০ জন অজ্ঞাতনামা
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| প্রায় দুই সপ্তাহ পূর্ব | নুর জাহান ও গুদামে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট |
| ২১ সেপ্টেম্বর | কুষ্টিয়া আদালতে মামলা দায়ের |
| ২৭ সেপ্টেম্বর (রোববার) | সকালে বাড়ি থেকে পুলিশ নুর জাহানকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ |
এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—বিশেষত যখন মামলাটি পুলিশের নিকট পিবিআই প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাদীর বাড়ি ও দলগত গ্রুপিংয়ে রাজনৈতিক রঙ রয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ও পরিবারের অনুরোধ, ন্যায্য তদন্ত এবং বাদী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক—এমন দাবি উঠে এসেছে। ঘটনার বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে বিস্তারিত Stellung নিতে বলা হলেও, ওসির ব্যস্ততার কথা জানানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো অভিযোগ যাচাই করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করছে এলাকাবাসী।
পরবর্তী করণীয়: জেলা পুলিশ, পিবিআই ও আদালত একযোগে ঘটনার যথাযথ সংবেক্ষণ ও তদন্ত করে তাৎক্ষণিক এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করলে স্থানীয় উদ্বেগ প্রশমিত হবে—এটাই উত্তরাধিকার স্বরূপ প্রত্যাশা করছে affected পরিবার ও এলাকার মানুষ।