কুষ্টিয়া— বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন, দেশের ইতিহাসে পরাজিত থাকা কিছু রাজনৈতিক শক্তি এখন পুনরায় সরকার অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বুধবার রাতে কুষ্টিয়ার দিশা টাওয়ারের মিলনায়তনে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তার মূল দাবানল
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম সভায় উল্লেখ করেন যে, একাত্তরের পরাজিত শক্তির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে আর বিশ্বাস রাখে না এবং ২৪-এর পরাজিত শক্তিও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাহীন। তিনি বলেন, এই দুই ধরনের ঐতিহ্যগত প্রক্রিয়ার মিলিত কার্যক্রম দেশের রাজনীতিতে মিশ্রিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা করছে।
“একাত্তরের পরাজিত শক্তির আজও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, ঠিক তেমনি ২৪ এর পরাজিত শক্তিরও বাংলাদেশের গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।”
অনিন্দ্য আরও বলেন, মাত্র সাত মাস বয়সী সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টাও দেখা যাচ্ছে এবং সে জন্য প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ঐক্যবদ্ধভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য কুষ্টিয়া জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে মিলিতভাবে এসেছে। তিনি এখনকার রাষ্ট্র পরিচালনার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনেনি, বরং ঐতিহ্যগত প্রতিপক্ষদের দিকে আঙুল তুলেছেন। সভায় অংশ নেওয়া তৃণমূল ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা দলের অভ্যন্তরীণ অনৈক্যের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
অনিন্দ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রূলটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। তিনি বলেন স্থানীয় পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে কুষ্টিয়ায় হারানো সম্মান ফেরাতে হবে—এর পটভূমিতে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত নেতারা
মতবিনিময় সভায় সরকারি ও দলের বিভিন্ন স্তরের পরিচিত নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন—
- কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন
- কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু
- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন
- জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার
| পদের নাম | অস্তিত্ব |
|---|---|
| প্রধান অতিথি | অনিন্দ্য ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী |
| সভাপতি | কুতুব উদ্দিন আহমদ, জেলা বিএনপি আহবায়ক |
| অন্যান্য | সোনাবাংলার ভোটজান্য স্থানীয় সংসদ ও জেলা নেতৃবৃন্দ |
উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা বক্তব্যে গত সংসদীয় নির্বাচনে কুষ্টিয়া অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী দলের ফলন খারাপ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে, তা কাটিয়ে উঠতে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে দলকে আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক পরিণতি ও স্থানীয় মানুষ
এই ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ ও নেতাদের মন্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট এমন একজন রাজনীতিবিদের কুষ্টিয়ায় এই ধরণের সমালোচনামূলক মন্তব্য স্থানীয় সমর্থকদের মনে জোরালো প্রভাব ফেলে।
স্থানীয় পর্যায়ে দলগত ঐক্য-অঐক্যের ওপর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ভর করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতারা সভায় অভ্যন্তরীণ বাধা প্রশমিত করে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানালেও, বাস্তবে তা কতটা সফল হবে—তাই এখন দেখার বিষয়।
সভায় রবি উল আলম ইভান সংবাদদাতার সার্বিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, মতবিনিময় সভায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন এবং দলের অভ্যন্তরীণ সুশৃঙ্খলতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
কুষ্টিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরণের আলোচনা ও সমাবেশ আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই স্থানীয় স্তরে অবস্থান সংহত করার প্রয়াস থাকায়, সামনের সময়ে আরও রাজনৈতিক কর্মসূচি আশা করা যায়।