কুষ্টিয়ার পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পে গতরাতে রাতের খাবার খাওয়ার পর অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে রাত সাড়ে তিনটায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলা পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পিটিকাবাড়ি (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার আওতাধীন) ক্যাম্পে শনিবার রাতে সাধারণ নৈশভোজে অংশ নেন প্রায় ১২ জন পুলিশ সদস্য। খাবারে ছিল সাদা ভাত, মুরগির মাংস ও সবজি। খাবার সেবনের পরে বিভিন্ন সময়ে কয়েকজনের শরীরে ঝিমুনি, দুর্বলতা, পেট ব্যথা ও বমি বমি ভাব দেখা দিতে শুরু করে এবং পরে একে একে রোগীরা অচেতন হয়ে পড়েন।
চিকিৎসা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ইউনিট-৩-এর প্রধান চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম বলেন,
“পুলিশ সদস্যদের অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে খাবারে বিষক্রিয়া বা অন্য কোনো কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।”
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পে ঘটনার পর সকালেই ঘটনাস্থলে যান জেলা পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশের একটি দল। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা আহতদের পর্যবেক্ষণে রাখছেন।
তদন্তের প্রাথমিক তথ্য
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পে রান্নার কাজে নিয়োজিত ওই স্থায়ী কর্মী — পাটিকাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সালেহা খাতুনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এছাড়া ক্যাম্পের রান্নাঘর থেকে থালা-বাসন ও খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, খাদ্যে বিষযুক্ত বা চেতনানাশক কোনো পদার্থ মেশানো ছিল কি না তা পরীক্ষার পরই চূড়ান্ত বলা সম্ভব হবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনাস্থল | পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্প, কুষ্টিয়া |
| আক্রান্ত | ১০ পুলিশ সদস্য (নাম সংযুক্ত) |
| আহতদের তালিকা (কিছু নাম) | উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান, এএসআই শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম, মুকতার হোসেন, মোহাম্মদ আমিন, আমিনুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম |
| চিকিৎসাস্থান | কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মেডিসিন বিভাগ |
প্রভাব ও স্থানীয় উদ্বেগ
এই ধরনের ঘটনা কুষ্টিয়ার জন্য নাণ্য উদ্বেগের বিষয়; কারণ এটি শুধু একাধিক পুলিশ সদস্যের স্বাস্থ্যের সমস্যাই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে। পুলিশ ক্যাম্পগুলো সাধারণত সংখ্যালঘু কর্মী নিয়ে নির্দিষ্ট ভোজের ব্যবস্থা করে। খাদ্যবনিলে আক্রান্ত হলে দ্রুত রেসোর্স ও চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন পড়ে। স্থানীয়রা ও সহকর্মীরা ঘটনাটিকে গভীরভাবে মনোযোগ দিয়ে দেখছেন এবং প্রশাসনকে দ্রুত সমাধান দাবি করছেন।
কী হচ্ছে তদন্তে — সংক্ষেপে
- রান্নাঘর থেকে খাবার ও বাসন-পাতনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
- রান্নার কাজে নিয়োজিত কর্মীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
- পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রের প্রাথমিকভাবে ধারণা—খাবারবিষক্রিয়া সম্ভব।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজন ও প্রশাসন তদন্ত চালিয়ে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট তৈরি করবে। চিকিৎসকরা আহতদের পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং তাদের অবস্থা আপাতত আশঙ্কামুক্ত বলে জানানো হয়েছে। আদালত কিংবা নিরপেক্ষ ইনস্টিটিউট দ্বারা কেমিক্যাল-টেস্টের রিপোর্ট না এলে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে না।