জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) মো. আরিফুর রহমান শান্তকে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল, এবং একই সঙ্গে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা
একই সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের বাসায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে এসিল্যান্ড উপস্থিত ছিলেন। পরে রাত সোয়া দশটার দিকে তিনি তাঁর দপ্তরীয় ফেসবুক পেজে দু’টি উদ্বেগজনক পোস্ট দেন—জানা গেছে সেই পোস্টে তিনি উচ্চ সুরে অভিযোগ করেছেন। পোস্ট দেখে প্রতিবেশি ও সহকর্মীরা, পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। রাতভোরে আরিফুর রহমানকে প্রথমে জামালগঞ্জ থেকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয় এবং পরবর্তীতে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় শনিবার বিকেলে তাঁর স্ত্রী ও উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মী তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান।
চিকিৎসা ও প্রশাসনের মন্তব্য
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, তারা নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর রাখছেন। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসিল্যান্ডের আগে থেকেই মানসিক সমস্যার উপসর্গ ছিল এবং চিকিৎসকরা এই রোগকে সিজোফ্রেনিয়া হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
“তাঁরা নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর রাখছেন... চিকিৎসক বলেছেন, এই রোগকে সিজোফ্রেনিয়া বলে।”
ইউএনও ও স্থানীয় বর্ণনা
ইউএনও শিল্পী রানী মোদক ঘটনার বিবরণে বলেন, এসিল্যান্ড ওই রাতে তাঁদের বাসায় উপস্থিত থাকার পর বের হয়ে সোয়া দশটার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দেন। পোস্ট দেখেই অনেকেই তাঁর বাসায় যান; পুলিশও আসে।
- প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তিনি তখন অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন—পরিচিত লোকজনকেও চিনতে পারছিলেন না।
- এক পর্বে তিনি সেখানে থাকা আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং ঘরের টেবিলের গ্লাস ভাঙেন।
- স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকও ঘটনাস্থলে যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়।
ইউএনওর বরাতে জানা গেছে, এসিল্যান্ডের স্ত্রী ইনজেকশনের কথা উল্লেখ করেন, তবে ওই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় কিছু ইনজেকশন পাওয়া যায়নি বলে বলা হয়েছে। এরপর পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ও পরে ঢাকায় নেয়া হয়।
অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিনব কর্মপ্রণালীর অংশ হিসেবে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মুজিবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যাতে আরিফুর রহমানকে ঐ কার্যালয়ে সংযুক্ত করা বিষয়টি জানান দেয়া হয়েছে। এই বদলি বা সংযুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং চিকিৎসা-সুরক্ষার খোঁজখবর অব্যাহত থাকবে।
| ঘটনার ক্রমানুসারে সময় | কী ঘটেছে |
|---|---|
| শুক্রবার—রাত সোয়া দশটা | এসিল্যান্ড দপ্তরীয় ফেসবুকে উদ্বেগজনক পোস্ট করেন |
| পরবর্তী সময় | পুলিশ ও স্থানীয়রা গিয়ে দেখেন তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন |
| রাত | সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়; পরে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় |
| শনিবার বিকেল | উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়া হয় |
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী প্রশ্ন
জামালগঞ্জে প্রায় দুই মাস ধরে এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য সংবাদে উঠে এসেছে। তার আচরণগত সমস্যা ও হঠাৎ প্রকাশ্য অভিযুক্তমুখর কথাবার্তা স্থানীয় প্রশাসন, সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—তাঁকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা—প্রশাসনিক নিয়মাবলী অনুযায়ী নেওয়া বলে বলা হলেও, স্থানীয়ভাবে পরবর্তী সময়ে কীভাবে দায়িত্ব বদল, চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ ও কর্মস্থলের শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয়রা আশা করছেন প্রশাসন রোগী ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত দিকগুলো নজরে রেখে সম্পৃক্তদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেবে। সুনামগঞ্জ প্রশাসন জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর অবস্থা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে তা ঘোষণা করা হবে।