সুনামগঞ্জ শহরের আব্দুজ জহুর সেতু এলাকায় মঙ্গলবার সকালে চোরাচালানবিরোধী একটি বিশেষ অভিযানে ৩ লাখ ৩৬ হাজার শলাকা ভারতীয় নিষিদ্ধ আমদানি হওয়া ‘নাসির’ বিড়ি ও একটি টয়োটা ডিআই পিকআপ জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযানে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযান ও গ্রেফতারের কথা
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানিয়েছেন, তাদের কাছে গোপন সংবাদ এলে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন নির্দেশনায় সদর ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ অভিজিৎ ভৌমিক ও তাঁর নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করে এই মালামাল জব্দ করে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, অভিযানে আটক ব্যক্তি হলেন আব্দুল করিম, তিনি ছাতক উপজেলার জহির আলী-এর ছেলে।
“অভিযানে নাসির বিড়িসহ একটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে এবং একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে”,
ওসি রতন শেখের কথাগুলো অভিযানের প্রেক্ষাপট ও নের্তৃত্ব সম্পর্কে প্রাথমিক ব্যাখ্যা দেয়। তদন্তের অংশ হিসেবে আটক ব্যক্তির জড়িত থাকার মাত্রা নির্ণয় ও পণ্য উৎস খতিয়ে দেখার বিষয়টি চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জব্দ মালামাল ও তার মূল্যায়ন
পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য নিম্নরূপ:
| আইটেম | পরিমাণ | আনুমানিক মূল্য (টাকায়) |
|---|---|---|
| নাসির বিড়ি (শলাকা) | ৩৩৬,০০০ | ১৬,৮০,০০০ |
| টয়োটা ডিআই পিকআপ | ১টি | ১০,০০,০০০ |
| মোট | ২৬,৮০,০০০ |
জব্দকৃত বিড়ির সংখ্যাকে স্বাভাবিক বনিক বিতরণধারার একক হিসেবে দেখলে তা জেলার বাজারে প্রবেশ করানো হলে স্থানীয় ও অবৈধ চ্যানেলে বিপুল পরিমাণ বিক্রি সম্ভব হত—এই আশঙ্কাই পুলিশকে অভিযান চালাতে উদ্বুদ্ধ করে বলে পুলিশের বক্তব্য।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশাসনিক সতর্কতা
সুনামগঞ্জে সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান ও ফেলে দেওয়া অপরিচিত পরিবহন পথ ব্যবহার করে কিস্তিতে এসব পণ্য স্থানান্তর করার ঘটনা আগেও দেখা গেছে। এই ধরনের নিয়ন্ত্রণহীন চালান স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপরও প্রভাব ফেলে—বাজারে অনিয়ন্ত্রিত ও সস্তা পণ্যে স্থানীয় উৎপাদকদের প্রতিযোগিতা অসুবিধায় পড়তে পারে এবং সরকারি রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- অভিযানটি ঘটেছে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুল এলাকা—আব্দুজ জহুর সেতুতে।
- জব্দকৃত পিকআপ ও বিড়ির সূত্র অনুসন্ধান করা হচ্ছে—কেনা-বেচা ও সরবরাহ চেইন খতিয়ে দেখা হবে।
- পুলিশ বলছে, চোরাচালান প্রতিরোধে এসব ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরবর্তী করণীয় ও আইনি প্রক্রিয়া
ওসি রতন শেখ জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। জব্দ মালামাল নিয়ে মামলা দায়ের ও প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তদন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। এছাড়া মালামালের প্রকৃত উৎস ও যারা এই চালান পরিচালনা করছিলেন তাদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অপরদিকে সাধারণ জনগণও আশা করছে, দ্রুত তদন্ত না করে কাউকে দোষারোপ করা হবে না—প্রতিটি ঘটনার পেছনে যে অপরাধী চক্র আছে তা বিচ্ছিন্নভাবে নয়, পুরো চেইন অনুসন্ধান করে সাম্যবিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনার পরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ফোর্সের চোখে থাকা এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো, পাড়ায়-প্রতিবেশে তথ্য সংগ্রহ এবং সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে—এগুলো ভবিষ্যতে চোরাচালান হরণে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।
অভিযান ও গ্রেফতারের বিষয়ে আরও তথ্য মিললে তা অনুসরণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।