সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বিদ্যালয়ের সামনে শান্তিরভঙ্গ করে লাইভ হামলা—পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন বর্মণ (৩০) কে রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা–১০টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আহত শিক্ষককে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনাপ্রবাহ ও অভিযোগ
স্থানীয় ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে একই গ্রামের এক ব্যক্তি টিনু মিয়া (৪০)-র বিরুদ্ধে। এই দুই পক্ষের মধ্যে বনিবনা ছিল জমি-জমাতে দীর্ঘদিনের বিরোধ। সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে টিনু মিয়া তার ছেলে ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ওই বিরোধিত জমি উদ্ধারের মতো করে সেখানে গিয়ে লাল নিশান টানানোর চেষ্টা করলে প্রতিবাদ করতেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
- সময়: রোববার সকাল ১০টা (প্রায়)
- অবস্থান: পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ
- আহত: লিটন বর্মণ, ডানায় ও মাথায় গুরুতর জখম
- অভিযুক্ত: টিনু মিয়া, তার ছেলে সঠিক মিয়া, ভাগ্নে মনির মিয়া ও আরও ৫-৬ জন
আহত শিক্ষকের বয়ান ও পরিবারের দাবি
"জমি-জমা নিয়ে আগ থেকেই বিবাদ ছিল। আজ তারা স্কুলের সামনে এসে আমাকে গালাগালি করে পেছন থেকে দা দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে, মাথা কেটে গেছে।"
আহত লিটন বর্মণ জানিয়েছেন, পূর্বে টিনু মিয়া তাকে হুমকি দিয়েছিলেন এবং আজ সেই হুমকিই বাস্তবে রূপ নেয়। ঘটনার পর পরিবারের লোক ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি তথ্য না পাওয়া গেলেও স্থানীয়রা জানান, তার মাথায় গুরুতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাম হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা খবর পেয়েছেন যে পূর্ব বিরোধের জেরেই শিক্ষককে এই হামলা করা হয়েছে। ওসি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ এখনও ঘটনার বিস্তারিত প্রত্যক্ষদৃষ্ট্য ও প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছে।
| দিক | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধর্মপাশা |
| আহত | লিটন বর্মণ (৩০), ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক |
| অভিযুক্ত | টিনু মিয়া (৪০), তার পুত্র সঠিক মিয়া, ভাগ্নে মনির মিয়া ও আন্যান্য |
| প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া | আহতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি; পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে |
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষককে লক্ষ্য করে সংঘটিত এই হামলা শিক্ষকমাধ্যম ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। স্কুল এলাকা সাধারণত শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে গণ্য হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে ভয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা সৃষ্টি করে। স্থানীয়দের মতে, যদি দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত না হয়, তাহলে সম্প্রদায়ের মধ্যে সমাধানহীন জমি-বিবাদ আরও বাড়তে পারে এবং স্থানীয় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা যুক্ত হবে।
ধর্মপাশা উপজেলা বা স্থানীয় প্রশাসন থেকে যদি দ্রুত রক্ষা ও তদন্তের ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তা হলে স্থানীয় সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনের কাছে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে চাপ জোরদার করার দাবি উঠে আসবে। পুলিশের তদন্ত ও সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি ও মামলা দায়ের করাই এখন কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
WE NEWS, সুনামগঞ্জ এই ঘটনার অগ্রগতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করে পাঠকদের জানাবে।