সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সুরমা নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় মাছ ধরার সময় বড় স্টিলবডি বাল্কহেডের ধাক্কায় মো. শাহীনুর (৪৬) নামে এক মৎস্যজীবী নিহত হয়েছেন। ঘটনায় জাহাজে থাকা আটজনকে আটক করেছে পুলিশ এবং নিহতের স্ত্রী পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৯ আগস্ট) বেলা ≈১২টার দিকে হালুয়ারঘাট নৌকা ঘাটের কাছে সুরমা নদীর মধ্যবর্তী অংশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহীনুর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং জীবিকা নির্বাহ করতেন মাছ ধরে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সকালে শাহীনুর একটি ছোট ডিঙ্গি নৌকায় সুতার ভাটা জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। তখন ভাটির দিকে থেকে উজানে আসা স্টিলবডি জাহাজ ‘এমবি হযরত আবেদ শাহ—১’ দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে। জাহাজের গতির কারণে ডিঙ্গি নৌকাটিকে আঘাত লাগে এবং সেটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে শাহীনুর জাহাজটির নিচে চলে যান। পরে জাহাজের ফ্যান থেকে তাকে বের করার চেষ্টা করা হলেও গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেন। পরে সেখান থেকে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গ্রেফতার ও তদন্তের অবস্থা
নিহত শাহীনুর স্ত্রী নাসিমা সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ রয়েছে তারা হলেন:
| নাম | বয়স |
|---|---|
| মো. মাসুদ করিম | ৪৪ |
| শেফার উদ্দিন | ৩৩ |
| মো. নুরুল হক | ৫০ |
| ওমর সিদ্দিকুর রহমান | ৫৩ |
| রকিব মৃদা | ২৬ |
| মো. নাছির উদ্দিন | ৪৫ |
| মো. ফয়ছল উদ্দিন | ৩৯ |
| মো. মেহরাজ উদ্দিন | ৩৪ |
স্থানীয়দের দাবী ও অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর জাহাজটি ছাতকের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা ও ছাতক নৌ পুলিশ তৎপর হয়ে সেটি ধাওয়া করে আটক করে। পরে জাহাজে থাকা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে ছাতক থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় পরিস্থিতি
সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ ঘটনার প্রাথমিক চিত্র সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, বাল্কহেডটি মৎস্যজীবীকে আঘাত করার পর ছাতকের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা তা ধাওয়া করে। আহত মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়; পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল ও আশপাশে থাকা স্থানীয়দের মধ্যে এ দুর্ঘটনার পর উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল; পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ঘটনার প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
মৎস্যজীবীর এই হঠাৎ মৃত্যু স্থানীয় জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সুরমা নদীসহ বড় খাদে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ছোট নৌকার চলাচলের সময় নিরাপত্তা কভিডা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার—বিশেষ করে জাহাজ চালকরা ধীর গতিতে চলা, সংকেত পড়ার ও নৌকাবাহিনীর নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে সচেতন না হলে ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
- জাহাজ চালক ও নৌকোহারীদের মধ্যে সনাক্তকরণের ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নির্দেশনার পাশাপাশি কমিউনিকেশন সরঞ্জাম বজায় রাখা জরুরি।
- নৌ পথে বাণিজ্যিক জাহাজের গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত সতর্কতা প্রদানের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
- স্থানীয় প্রশাসন ও নৌ পুলিশ দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের আইনি পথে তোলার ব্যপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়—এটাই দাবি স্থানীয়দের।
ঘটনায় নিহত মো. শাহীনুরের পরিবার ও এলাকাবাসী ন্যায্য হিস্যা ও বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ ও দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে; তদন্তের জবাবদিহি ও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।