সুনামগঞ্জের কয়েকশত মানুষ জেলা শহর থেকে জামালগঞ্জ পর্যন্ত চলমান পথের দু’পাশে দ্রুতগতিতে গাছ কাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছে। শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইচ্ছারচর এলাকায় ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’ আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা জানান, সুনামগঞ্জ–জামালগঞ্জ সড়কের 19 কিলোমিটার অংশে মোট প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়; ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ сделали।
প্রতিবাদ ও অভিযোগ
সমাবেশে উপস্থিতরা বলেন, দুই বছর আগে একই উদ্যোগের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনের ফলে গাছ রক্ষা পেয়েছিল। কিন্তু এবার গোপনে কাজ শুরু করে বন বিভাগের কর্মকর্তারা। বক্তারা অভিযোগ করেন, গাছগুলো সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে রোপণ করা হয়েছিল; সেগুলোই এখন নির্বিচারে কাটা হচ্ছে।
বক্তারা একইসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, কর্তৃপক্ষ সড়ক সম্প্রসারণ ও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়া—এই দুইটাকেই কাটা justify করার কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে স্থানীয়রা বলেন, কে দ্বিতীয় বার গাছ কাটা শুরু করছে তার বিষয়ে তাদের কোনো নোটিশ বা অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ জানানো হয়নি। সমাবেশে বক্তারা বন বিভাগের পক্ষকে ‘অযথাকার’ কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
“আমাদের আন্দোলনের ফলে দুই বছর আগে গাছগুলো রক্ষা পেয়েছিল। আবার গোপনে কাউকে না জানিয়ে গাছ কাটার সব প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। এখন নির্বিচার গাছ কাটা শুরু হয়েছে। দ্রুত গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।”
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও দাবি
সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতারা পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাবের দিকে গুরুত্ব দেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—এই অঞ্চলের মানুষের জন্য ছায়া, বন্যা-প্রতিরোধ, মাটি ধরে রাখা এবং পাখি-জীববৈচিত্র্য রক্ষার মতো কার্যকর ভূমিকা রয়েছে গাছগুলোর। এগুলো ছিন্ন হওয়ার ফলে স্থানীয় পরিবেশ বিভিন্ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা মনে করেন।
বক্তারা দ্রুত:
- কাটা বন্ধ করার জন্য বন বিভাগ ও সড়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা দাবি করেন,
- কোনো ধরনের কাটা থাকলে সেটা স্বচ্ছ সতর্কতা ও ক্ষতিপূরণ প্রকল্পের মাধ্যমে করা হোক,
- সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির অস্থায়ী মেয়াদ শেষ হলে পুনর্বাসন ও বিকল্প বনায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
কী বলা হলো প্রশাসনের কথা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানেন না। বন বিভাগের সুনামগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংবাদসূত্রে আংশিক তথ্য পাওয়া গেছে, কিন্তু সরকারি কোনো পক্ষের কাছ থেকে সমাপ্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি—অতএব স্থানীয়দের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
| বিষয় | উল্লেখিত তথ্য |
|---|---|
| সড়কের দৈর্ঘ্য | 19 কিলোমিটার |
| মোট গাছ (আনুমানিক) | সাড়ে চার হাজার |
| ইতিমধ্যে কাটা হয়েছে | এক হাজারের বেশি |
স্থানীয় সংস্থাগুলো বলছে, যদি গাছ কাটা বাধ্যতামূলকও হয়ে থাকে, তাহলে অন্তত: সুষ্ঠু পরিকল্পনা, স্থানীয়দের জানানো ও বিকল্প বনায়ন-বিধান থাকা উচিত। তাঁরা মনে করেন—প্রকল্প থাকলেও জনসাধারণকে সঙ্গে না নিয়ে এমন উদ্যোগ গ্রহণ পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যা ডেকে আনবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ রাজু আহমেদ, সহসভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম ও ওবায়দুল মুন্সীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। তারা বন বিভাগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সিন্ডিকেট জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন এবং দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নও তৈরি করছে—কোন প্রতিষ্ঠান ও কীভাবে বনায়ন বা সড়কপ্রকল্পের নামে গাছ কাটার উদ্যোগ নেয়, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেই মত সমাবেশের। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে এলাকায় মনিটরিং চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন হলে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের দ্বারে যাবে।
এমন সময় জেলার বাসিন্দারা আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকার নেবেন।