সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এক নবজাতকের গলা কেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আর আশপাশে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাংবাদিকদের উপস্থিতি ও স্থানীয়দের আগ্রাসী আচরণ শামিল হয়ে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
জেনারেল হাসপাতালে ডা. অতুল কুমার মজুমদার (মিন্টু) তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক প্রসূতির সিজার করা হয়। আহত নবজাতক সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মঈনুল ইসলামের ছেলে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। নবজাতকের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, অপারেশনের সময় চিকিৎসকের অসাবধানতায় শিশুটির গলায় কাটা পড়ে এবং এরপর থেকেই সেখানে রক্তক্ষরণ চলছিল।
পরিবারের দাবি ও হাসপাতালে উত্তেজনা
ঘটনার পর শিশুটির স্বজনরা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে, তাদের কথায়-কথা শুনে তারা সন্তুষ্ট হননি; বরং অভিযোগ করে বলেছেন, হাসপাতালে তাদের খারাপ আচরণ ও হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের সামনে লোকজন জড়ো হয় এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
“চিকিৎসক সিজার করার সময় আমাদের শিশুর গলায় কেটে যায়। আমরা তাকে জানালাম, সে বলছে এখানে চিকিৎসা হবে না, সিলেটে নিয়ে যেতে হবে... অপারেশনের পর থেকেই শিশুটির গলার কাটা অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।”
অন্য এক স্বজন নূর মিয়া জানান, তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাননি এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েছেন। স্থানীয়রা ঘটনাটির স্বচ্ছ তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন।
পুলিশি ব্যবস্থা ও নবজাতকের পাঠানো
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেছেন, বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে রেখেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় রাত ৯টার পর নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়।
- ঘটনাস্থল: কাজী পয়েন্ট, জেনারেল হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ পৌর শহর
- অপারেশন পরিচালনা: ডা. অতুল কুমার মজুমদার (মিন্টু)
- অভিযোগকারী পরিবারের নাম: মঈনুল ইসলামের পরিবার (বাহাদুরপুর)
- পুলিশি পদক্ষেপ: একজনকে আটক, নবজাতককে সিলেটে রেফার
| আইটেম | তথ্য |
|---|---|
| অপারেশনের তারিখ ও সময় | ২৭ আগস্ট, সন্ধ্যা (ওই দিন) |
| চিকিৎসকের নাম | ডা. অতুল কুমার মজুমদার (মিন্টু) |
| নবজাতকের জেলা | সুনামগঞ্জ সদর (বাহাদুরপুর গ্রাম) |
| পুলিশি পদক্ষেপ | একজনকে আটক, রেফার্ড নবজাতক |
প্রতিবাদের আভাস ও স্থানীয় প্রত্যাশা
স্থানীয় যুবক তানভীর আহমেদ বলেছেন, তারা চান ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। হাসপাতাল ও পরিবারের বক্তব্যে সামঞ্জস্য না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে:
- অপারেশনের সময় কিভাবে এমন গুরুতর আঘাত ঘটল এবং তার দায়ভার কার?
- হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সুযোগ থাকলে কেন তা পর্যাপ্ত মনে করা হলো না?
- নিয়মতান্ত্রিক অনুসন্ধান ও স্বচ্ছতা কবে ও কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে যে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়ার সঙ্গে সুনামগঞ্জবাসী দ্রুত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা কামনা করছেন। রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ ওই বিষয়গুলো সরকারি ও প্রাসঙ্গিক ভেফার মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উন্মোচন করা প্রয়োজন।
এই ঘটনার আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং চিকিৎসা-নির্ভর দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য আদালত বা তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠতে পারে—যা সুনামগঞ্জের চিকিৎসা-পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে জরুরি।