স্বাস্থ্য সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জ (53)

দুই দফা উদ্বোধনের باوجود কার্যকর নয় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট

হাওরাঞ্চলের প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলেও রোগী ভর্তি ও পূর্ণাঙ্গ সেবা না মিলায় জেলার প্রায় ২৮ লাখ মানুষ এখনো উন্নত জরুরি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত।

দুই দফা উদ্বোধনের باوجود কার্যকর নয় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট
©অলংকরণ ডা. শারমিন আক্তার / we-news.com

সুনামগঞ্জের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল—২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নির্মিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিট দুই দফায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলেও এখনও পূর্ণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে গুরুতর রোগী ও দুর্ঘটনায় আক্রান্ত রোগীরাও উন্নত জরুরি সেবা পেতে পারছেন না।

আইসিইউ ঘোষণার ইতিহাস ও বাস্তবতা

আঞ্চলিকভাবে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের উদ্যোগে হাসপাতালের অষ্টম তলায় আইসিইউ স্থাপন করা হয়েছিল। প্রকল্পটির ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় ইউনিটটি স্থাপিত ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করা হয়।

টাইমলাইনটিতে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মাইলফলক:

  • ২০২৩ সালের ২১ মার্চ: হাসপাতালের কাছে লাইফ-সেভিং সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়।
  • ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর: ওই সময়কার প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনিট উদ্বোধন করেন, কিন্তু তখন নামমাত্র উদ্বোধন হওয়ায় পরিষেবা চালু হয়নি।
  • গেল ১৪ জুন: বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক দ্বিতীয়বার ইউনিট উদ্বোধন করেন; তারপরও পূর্ণাঙ্গ রোগী ভর্তি শুরু হয়নি বলে দেখা যায়।

কেন সেবা শুরু হচ্ছে না — হাসপাতালের ব্যাখ্যা

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন, বর্তমানে আইসিইউতে রোগী রেখে ট্রায়াল চলছে; তবে সম্পূর্ণভাবে সেবা চালু করা হচ্ছে না। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডিসেম্বরে ইউনিটটি পুরো দমে চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়কের দাবি সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসা কর্মীদের অভাব, পর্যাপ্ত ওষুধ ও সেবা নিশ্চিতকরণের অনিশ্চয়তা নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের কথা—যখন ভিতরকার যন্ত্রপাতি থাকলেও পদে-পদে লোকবল ও সিস্টেম না থাকলে আইসিইউ কার্যকর হওয়া সম্ভব না।

আঞ্চলিক প্রভাব ও রোগীদের দুর্ভোগ

সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চলের জনগণ, বিশেষত কৃষক, জেলে ও শ্রমজীবীরা দুর্ঘটনা বা হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরের একমাত্র বড় সরকারি কেন্দ্রেই ভরসা রাখে। কিন্তু আইসিইউ না থাকায় রোগীদের কাছের হাসপাতালে জরুরি সেবা না পেলে অনেককে সিলেটের চিকিৎসা কেন্দ্রে রেফার করতে হচ্ছে—যা সময় ও খরচ দুইদিকেই ভোগান্তিকর।

হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ও আইসিইউ না থাকা—এই দুইয়ের সংমিশ্রণে জরুরি সেবা সংকট বাড়ছে। স্থানীয়রা বলেন, বছরের সব সময়ে বিদ্যুৎ-জলবায়ু ও যোগাযোগ সীমাবদ্ধতার মধ্যে দ্রুত রেফার করা সম্ভব না হওয়ায় রোগীর জীবনঝুঁকি বাড়ে।

রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থায়িত্ব বিষয়ে প্রশ্ন

সরঞ্জাম হস্তান্তর ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও দীর্ঘ সময় অকার্যকর থাকায় কিছু যন্ত্রাংশ নষ্ট বা অবহেলায় পড়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীরা বলছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেই হবে না; সেগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা ও কন্ট্রোল টিম থাকা জরুরি।

বিষয় অবস্থা
আইসিইউ শয্যা ১০ শয্যা
প্রকল্প ব্যয় ২ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা
উপহার সরঞ্জাম হস্তান্তর ২১ মার্চ ২০২৩
প্রথম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৪ নভেম্বর ২০২৩
দ্বিতীয় উদ্বোধন গেল ১৪ জুন (বছর সূত্রে নির্দিষ্ট)

স্থানীয়দের অনুশোচনা ও কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি

স্থানীয়রা বলে, পরিচ্ছন্নতা, সরঞ্জাম কার্যকর না হওয়া ও চিকিৎসক-নার্সের অনুপস্থিতি সম্মিলিতভাবে হাসপাতালের মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে। তারা দ্রুত আইসিইউ চালু করার জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা ও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রায়াল শেষে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও মানবসম্পদ সম্পৃক্ত করে ডিসেম্বরেই ইউনিটটি পুরোপুরি চালু করা হবে। তবে এলাকাবাসী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, পরিষ্কার সময়সীমা, নিয়োগ ও সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা না প্রকাশ করা পর্যন্ত তারা আশ্বস্ত হবেন না।

প্রয়োজনে করণীয় ও সাধারণ নির্দেশনা

  • জরুরি অবস্থায় রোগীকে দ্রুত সিলেট বা নিকটস্থ উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে রেফারের প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন।
  • স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে আইসিইউর কার্যকারিতা ও লোকবল নিয়োগ বিষয়ে খোলামেলা তথ্য দেওয়ার দাবি রয়েছে।
  • সার্বিকভাবে রোগী সেবা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়কেও অংশগ্রহণ নির্ধারণ করার প্রয়োজন রয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট চালু না হওয়ায় এ অঞ্চলের জরুরি চিকিৎসাসেবার দূরদৃষ্টি স্পষ্ট। যে প্রতিশ্রুতি আরোপ করা হয়েছে—সেগুলো বাস্তবে রূপ নিলে এলাকার অসংখ্য রোগীর জীবন রক্ষা সম্ভব হবে; না হলে নিত্যনৈমিত্তিক রোগভোগী-দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।

ডা. শারমিন আক্তার
ডা. এআই স্বাস্থ্য সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ডা., WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

53সুনামগঞ্জ

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো সুনামগঞ্জ, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব