সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ২৫০ শয্যা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল-এর আইসিইউ ইউনিট দুই দফায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরও বাস্তবে পুরোপুরি চালু হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বর্তমানে সংকটমুলক রোগী রেখে পরীক্ষামূলক (ট্রায়াল) সেবা দেওয়া হচ্ছে, আর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে আগামী ডিসেম্বরে।
আইসিইউ উদ্বোধন—তারিখ ও বাস্তবতা
এই ইউনিটটি স্থাপনে খরচ করা হয়েছে মোট ২ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। আইসিইউ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হলে ২০২৩ সালের ২১ মার্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অত্যাধুনিক লাইফ-সেভিং সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। পরে একই বছরে আইসিইউ ইউনিটের নামমাত্র উদ্বোধনও ঘটে। এরপর চলতি বছরে আবারও উদ্বোধন করা হয়, তবু সেবা পুরোপুরি শুরু হয়নি।
কোন সমস্যা আছে?
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসক পরিপ্রেক্ষিতে আইসিইউ চালুর অনুপস্থিতির কারণগুলো যথাযথভাবে প্রদান করা হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক–নার্স, ওষুধ ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থার ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে। হতদরিদ্র, দূরবর্তী ও আসন্ন দুর্ঘটনায় আক্রান্ত রোগীরা তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
- আইসিইউ স্থাপনের মোট খরচ: ২ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা
- আইসিইউ শয্যা সংখ্যা: ১০ শয্যা (অষ্টম তলায়)
- হাসপাতাল শয্যা সংখ্যা: ২৫০
- জেলার জনগণ: প্রায় ২৮ লাখ
প্রভাব ও জনগণের কষ্ট
সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চল—এই অঞ্চলের মানুষ রোদ, বৃষ্টি ও বজ্রপাত উপেক্ষা করে কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও অন্যান্য অনিশ্চিত উদ্যোগে জীবিকা নির্বাহ করেন। গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাঁরা জরুরিভাবে নিকটবর্তী শিবিরে আসেন। কিন্তু এগুলোর মাঝেই জেলা হাসপাতালের আইসিইউ নামমাত্র উদ্বোধনের ফলে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত রেফার করে পাঠানো হয় সিলেট বা ঢাকায়, যা সময় ও খরচ দুটোই বাড়ায় এবং ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
টাইমলাইন
| বছর/তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২০২৩-০৩-২১ | আধুনিক লাইফ-সেভিং সরঞ্জাম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর |
| ২০২৩-১১-১৪ | আইসিইউ নামমাত্র উদ্বোধন (তৎকালীন সরকার প্রধান) |
| ২০২৬-০৬-১৪ | দ্বিতীয়বার আইসিইউ উদ্বোধন—তবে পূর্ণ শেবায় অনুপস্থিতি অব্যাহত |
হাসপাতাল ও পরিচালন সূত্রের বক্তব্য
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন, বর্তমানে এই বিভাগে রোগী রেখে পরীক্ষামূলকভাবে সেবা দেয়া হচ্ছে এবং গত প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে আগামী ডিসেম্বরে পুরোপুরি চালু করা হবে। তবে স্থানীয় চিকিৎসক ও রোগীদের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় যে, প্রয়োজনীয় মানবশক্তি ও ওষুধ সরবরাহ না হলে সময়সীমা মিললেও কার্যকর সেবা নিশ্চিত হওয়া মুশকিল।
দূরপ্রবাহিত সমস্যার পরিপ্রেক্ষিত
হাওরের মানুষের জন্য জেলার একমাত্র বড় সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ না থাকলে রোগীকে দ্রুত রেফার করা ছাড়া বিকল্প থাকে না। রেফার প্রক্রিয়ায় সময় নষ্ট হওয়া, পরিবহন ও আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং জীবনের ঝুঁকি—এই সবই সাধারণ বাস্তবতা। উন্নত জরুরি সেবা না থাকায় স্থানীয় চিকিৎসার ওপর আস্থা কমে এবং রোগী-পরিবার প্রভাবিত হয়।
উপযোগী প্রস্তাব ও প্রত্যাশা
এই পরিস্থিতি কাটাতে প্রয়োজন হবে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের উপর দ্রুত মনোযোগ। নিম্নলিখিত বিষয়গুলো জরুরি:
- আইসিইউ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ
- নিয়মিত জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও সরঞ্জাম নিরাপদ রাখা
- পারফরম্যান্স নিরীক্ষণ ও পরিষেবা শুরুতে সময়সীমা নিশ্চিতকরণ
সুনামগঞ্জের রোগী ও তাদের পরিবারের জন্য আইসিইউটি কার্যকর হলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ ছাড়া এই অঞ্চলের মানুষের উপর বর্তমান ঝুঁকি কমানো কঠিন হবে।