সুনামগঞ্জ — শহরের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রুটটিকে চারলেনে উন্নীত করার জন্য গত বছর শেষ নাগাদ শুরু হওয়া নির্মাণকাজের তৃতীয় তলে পরিস্থিতি বদলায়নি—বরং চলতি কাজের কারণে পথচারী ও যানবাহন ব্যবহারকারীরা প্রতিদিনই নানা দারুণ দুর্ভোগে পড়ছেন।
প্রকল্প ও কাজের পরিধি
রাস্তাটির টুকরো অংশ, বাসস্ট্যান্ড থেকে হাসন তোরণ পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটারের একাংশকে চারলেনে উন্নীত করার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মোট অনুমান ব্যয় প্রায় ৪৪ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়ন করছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনজেবি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অনুকূলে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের শেষদিকে, আর নির্ধারিত সময় বলে দেয়া হয়েছে—২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত কাজ শেষ হবে।
অগ্রগতি ও নানান জটিলতা
আধিকারের সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৬৮–৭০ শতাংশ পর্যায়ে রয়েছে। তবে বাস্তবে পথচারী ও পরিবহনচালকদের অভিযোগের তালিকায় কাজের ধীরগতি নয়—বরং চলমান নির্মাণকাজের তীব্র প্রভাবই বেশি। রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি, কাদাপানি, ধুলাবালি এবং নির্মাণ সামগ্রীর অবস্থান নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার জন্য যানজট ও যান্ত্রিক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
দৈনন্দিন ব্যবহারকারীদের কষ্ট
চাকরি প্রার্থী ও রুটিন যারা যান, তাদের কাছে প্রকল্পটি স্বস্তি বয়ে আনবে বলে যে আশায় কাজ শুরু হয়েছে, তা এখন দীর্য্যশীর্ণ অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে। চাকরিজীবী শান্ত পাল বলেন, নির্মাণ কাজ মাঝে মাঝে চলার পরে আবার থমকে যায়; ফলে কার্যকরী অগ্রগতি না দেখে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘ হয়। আরপিন নগর এলাকার বাসিন্দা হাসান মিয়া জানান যে বৃষ্টির দিনগুলোতে কাদাপানি ও শুকনো দিনে ধুলাবালির কারণে পথচলা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং ছোট দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
পরিবহনচালকের সমস্যা
সড়কের খারাপ অবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গণপরিবহনের চালকদের ওপরও। অটোরিকশা চালক ঝলক বলেন, কাজ ঝলমলে না থাকায় রুটিনের ছোট অংশেই তাদের গাড়ির চাকায় নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে—বারবার টায়ার ফেটোয়া, বাম্পার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইত্যাদি। তাঁর অভিমত অনুযায়ী, পূর্বে পাঁচ মিনিটে পৌঁছায় এমন পথ এখন কালো কখনো আধা ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নিচ্ছে।
অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা
রাস্তাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রকল্পের শুরুতে বেশ কয়েকটি জটিলতা ছিল—গাছ অপসারণ, বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তর, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং ভূগর্ভস্থ সেবা লাইনের সঙ্গে সমন্বয়। এ সমস্যাগুলো সরিয়ে কাজ চালাতে হয়েছে এবং বর্ষাকালে কাজ চালিয়ে যাওয়াও তাদের অপশন ছিল।
কী করলে দুর্ভোগ কমবে
স্থানীয়রা চাচ্ছেন—নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত কর্মদক্ষতা বজায় রেখে দ্রুত প্রকল্প শেষ করা। একই সঙ্গে কয়েকটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা অবিলম্বে নেওয়া গেলে সময়ের সঙ্গে ভোগান্তি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিছু আইডিয়া হয়ে উঠতে পারে:
- নির্দিষ্ট অংশে পর্যায়ক্রমে কাজ করে তৎক্ষণাৎ পাল্টানো পথ আর বিকল্প রুট নির্ধারণ।
- কাজ চলাকালে নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য সময় নির্ধারণ ও তাত্ক্ষণিক ট্রাফিক কন্ট্রোল।
- বর্ষাকালে কাদাপানি রোধে অস্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে জলসংযোগিক ব্যবস্থা।
- রাস্তায় কর্মসংস্থানে নিয়োজিতদের নিয়মিত মান নিয়ন্ত্রণ ও কনিং কার্যক্রম তদারকি।
প্রকল্পের মৌলিক তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দৈর্ঘ্য (আনুমানিক) | ৪ কিলোমিটার |
| অর্থনৈতিক ব্যয় | প্রায় ৪৪ কোটি টাকা |
| ঠিকাদার | জনজেবি (ঢাকা ভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান) |
| নির্ধারিত সমাপ্তির সময় | ২০২৭ সালের জুন |
| অবস্থা | ৬৮–৭০ শতাংশ অগ্রগতি (অধিদপ্তরের হিসাব) |
নগরবাসী বলেন—রাস্তাটির উন্নয়ন অনস্বীকার্য হওয়া সত্ত্বেও কাজ করার ধরন ও সময়সূচি এমন হওয়া উচিত যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অনাবশ্যক ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়। ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত সমন্বয় করে কাজের ধারা তাৎক্ষণিকভাবে ধারাবাহিক রাখেন, তাহলে আশা করা যায় যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ হলে চালক-যাত্রী উভয়ই উপকৃত হবেন।