নিয়োগ আটকে, হতাশা বাড়ছে
সুনামগঞ্জ: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও সুনামগঞ্জের ১২০ প্রার্থীর নিয়োগ এখনও স্থগিত রয়েছে—এ অভিযোগ উঠেছে জনসাধারণ ও প্রার্থীদের মধ্যে। তারা বলছেন, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিএসবি পুলিশের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব প্রার্থীর নিয়োগপত্র জারি করা হচ্ছে না।
প্রার্থীদের দাবি ও মানসিক অবস্থা
দীর্ঘ আট মাসের প্রতীক্ষার পর নিয়োগপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে হঠাৎ এই অনিশ্চয়তা প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। বিভিন্ন উপজেলায় অবস্থান নেয়া প্রার্থীরা জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত বাড়ির সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি করেন।
“চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর গত আট মাস ধরে নিয়োগের আশায় ছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত নিয়োগপত্রে নিজের নাম না দেখে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।”
— তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের আমিরুল হাসানের বক্তব্য হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই গ্রাম থেকে মহসিন মিয়া, শান্তিগঞ্জের সামন্ত কুমার দাসসহ অনেকে ব্যক্তিগত ও আর্থিক কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন।
অফিসে কি বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা?
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানান, জেলার মোট ৬৩৫ জন শিক্ষকপদের বিপরীতে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তরা রয়েছেন, তবে তাদের মধ্যে আপাতত ১২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“জেলায় মোট ৬৩৫ জন শিক্ষক পদের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আপাতত ১২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমানও জানান, সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকে বাদ পড়ার বিষয়টি তাদের অবগত হয়েছে এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত ঘটনাবলীর বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের পরে কথা বলার কথা জানান।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন ও বিত্তহীন পরিবার সমর্থন করে তোলার প্রত্যাশায় ছিলেন। তাদের অনিশ্চয়তা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সমস্যাই নয়—এটি স্থানীয় স্কুলগুলোর শিক্ষাকাজেও প্রভাব ফেলতে পারে। বরাবর জনবহুল এই পরিষেবায় শূন্যপদ পূরণে দেরি হলে ক্লাস পরিচালনা, শ্রেণি-সংখ্যা ও শিক্ষার মান প্রভাবিত হতে পারে।
- মোট সুপারিশপ্রাপ্ত: ৬৩৫ জন
- তত্ক্ষণাত্ নিয়োগবঞ্চিত: ১২০ জন
- অপেক্ষার সময়কাল: প্রায় ৮ মাস
তথ্য যাচাই ও পরবর্তী সম্ভাব্য পথ
ঘটনাস্থল ও সংশ্লিস্ট সূত্রে দেখা যায়, ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন নির্দেশ করে যে কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে এনএসআই বা ডিএসবি থেকে নেগেটিভ কিছু তথ্য এসেছে—কিন্তু সরকারি ঘোষণায় স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। প্রার্থীরা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি নেই এবং রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততাও নেই। এ অবস্থায় স্বচ্ছ ও স্বাধীনভাবে পুনঃতদন্ত ও অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি উঠে এসেছে।
কীভাবে এগোবে?
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তই আগামী কয়েক দিনে চূড়ান্ত কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করবে বলে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রার্থীদের বক্তব্য ও জেলা অফিস কর্তৃপক্ষের ভাষ্যের সমন্বয়ে আশা করা হচ্ছে দ্রুত কোনো নির্দেশনা আসবে। তবে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এসব প্রার্থীর সামাজিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে।
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| সপ্তাহপ্রাপ্ত সামগ্রিক পদের সংখ্যাঃ | ৬৩৫ |
| যাদের নিয়োগস্থগিত আছে: | ১২০ |
| অপেক্ষার সময়: | প্রায় ৮ মাস |
অতীতের অনুরূপ ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ভেরিফিকেশনবিষয়ক জটিলতা দ্রুত না মিটলে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়কে প্রার্থীদের অধিকার ও স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি করছেন পরিবার এবং স্থানীয় শিক্ষা-কর্মীরা।