সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের সময় ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে সংঘর্ষে রুপ নেয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট পর্যন্ত মারামারি ছড়িয়ে পড়ে এবং সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে ওই মহাসড়কে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় লোকজন ও পরিবহন সমস্যায় পড়ে।
ঘটনার সময় ও পরিস্থিতি
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজন করে মিছিল। একই সময়ে ছাত্রদলেরও একটি মিছিল কলেজ ফটকের সামনে আসে। দুই পক্ষের মিছিলের মুখোমুখি অবস্থান থেকে কথাকাটাকাটির সূত্র ধরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং পরে হাতাহাতি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-তাড়া শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এগুলো ঘটার পর সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয় এবং অনেক যানবাহন সেখানে আটকে পড়ে। পরে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত ও চিকিৎসা
স্থানীয় সূত্রে খবর, সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে পথচারীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতদের অংশকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আহতদের দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে; তবে গুরুতর অবস্থার কোনো রেকর্ড প্রথম আলো সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যায়নি।
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | গোবিন্দগঞ্জ আবদুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ, ছাতক |
| সময় | বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ (শুরুর সময় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে) |
| আহত | প্রায় ২০ জন (স্থানীয় সূত্র) |
| সড়ক অবরোধ | কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ |
দাবি-অভিযোগ এবং পুলিশ সাড়া
উভয় পক্ষ থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহবুর আলম অভিযোগ করেছেন যে, ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কর্মী কলেজের বাইরের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পর্কে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেন; সেই মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়—এই মত তাদের। অপরপক্ষে ছাত্রশিবিরের গোবিন্দগঞ্জ শাখার সভাপতি জুনায়েদ আহমদ দাবি করেছেন, তারা শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচি পালন করছিল এবং হঠাৎ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
“কলেজের ভেতরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
এ উদ্ধৃতিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ শফিকুল আলমের কথার সারাংশ হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে; তিনি বলেছেন যে কলেজের ভেতরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ছাতক থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ বলেন যে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যায় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে; তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
- টায়ার-জ্বালানো ও ককটেল বিস্ফোরণ সড়ক অবরোধ ও নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়িয়েছে।
- স্থানীয়রা ও যানবাহন অনেকক্ষণ আটকে থাকায় দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত দেখা দেয়।
- পুলিশ ঘটনা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শিথিল করেছে; তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য ও পুলিশের তথ্য বিবেচনায় ঘটনাটি কলেজে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানের সাথে সরাসরি জড়িত, তবে কি কারণে উত্তেজনা হাতাহাতিতে রূপ নেয় তার সুষ্ঠু তদন্ত অপরিহার্য। সুনামগঞ্জ জেলা ও ছাতক থানায় অভিযোগভিত্তিক অনুসন্ধান চলছে, এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে যাতে পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে।