সুনামগঞ্জের দুই বড় বালুমহাল—যাদুকাটা‑১ ও যাদুকাটা‑২—ইজারাদারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় জেলার আদেশে বর্তমানে বালু উত্তোলন বন্ধ আছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি রাজস্ব আহরণ এবং হাজারো শ্রমজীবীর জীবিকাসহ স্থানীয় পরিবেশ ও নদীর তীররক্ষার দিকগুলো নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন মহাল দুটি পরবর্তী ছয় মাসের জন্য খাস কালেকশনে নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে।
কেন উদ্বেগ বেড়েছে
যাদুকাটা বালুমহাল কেবল সরকারি রাজস্বের একটি বড় উৎসই নয়, এটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার শ্রমজীবী পরিবারের আয়ের একটা মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ছিল। বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় এই নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—ইতোমধ্যেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি সংকুচিত হবে।
ইজারার সময় দেখা যাওয়া অপকর্ম ও পরিবেশগত ক্ষতি
ইজারা পদ্ধতি চালুর পর নানা ধরনের অনিয়ম এবং পরিবেশগত ধ্বংস শুরু হয়েছে—সেগুলো সূত্রে বলা হয়েছে:
- নিয়ম লংঘন ও নদীর পাড় কাটা
- ড্রেজার বা বোমা মেশিন ব্যবহার করে যান্ত্রিক খনন
- অতিরিক্ত রাএইতি আদায় এবং ইজারাধীন সীমানার বাইরের বালু তোলা
- সনাতন পদ্ধতি লোপ পাওয়া ও শ্রমজীবীদের কর্মসংস্থান কুকেঁটে নেওয়া
সূত্রে বলা হয়েছে, "যাদুকাটা নদী একটি পাহাড়ি নদী ছিলো, যেটি শুকনা মৌসুমে প্রায় শুষ্কই থাকতো; সেই নদী এখন বিশালাকার ধারণ করে পদ্মা—মেঘনাকেও ছাপিয়ে যেতে চাইছে। এ কারণে নদীর তীরবর্তী জনবসতিগুলোর অনেকগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, এখনও অনেকগুলো প্রচণ্ড হুমকির সম্মুখীন।"
"সমৃদ্ধ এই প্রাকৃতিক উৎসের সম্পদ দেশের জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়া কাম্য থাকলেও তা আজ কয়েক জন ব্যক্তির স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।"
ঐতিহ্যগত কর্মকৌশল বনাম যান্ত্রিক উত্তোলন
সূত্রটি উল্লেখ করেছে, আড়াই দশক আগে সনাতন পদ্ধতিতে শ্রমজীবীরা বারকি নৌকায় বালু এনে বিক্রি করতেন—এতে বহু পরিবারের আয় ছিল। কিন্তু ইজারা পদ্ধতি শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েকজন প্রভাবশালী ইজারাদারের হাতে সম্পদের কুণ্ঠন ঘটায় এবং যান্ত্রিক খননের ফলে দ্রুত লাভের লক্ষ্যে নদীর পাড় কাটা ও বিশাল উত্তোলন চালানো শুরু হয়। এর ফলে:
- রিভারব্র্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- অনেক পরিবারের জীবন ভাঙচুরের সম্মুখীন হয়েছে
- দীর্ঘমেয়াদে নদীর ধারাবাহিকতা ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে
জেলা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ ও চ্যালেঞ্জ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বালু মহালগুলো খাস কালেকশনে নিয়ে সরকারি রাজস্ব আহরণ অব্যাহত রাখার বিষয়ে জেলা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ইজারাদারি কালের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং রাজস্ব সংরক্ষণে সহায়তা করবে—তবে একই সঙ্গে স্থানীয় শ্রমজীবীদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা না করলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব অনিবার্য।
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| বালুমহাল | যাদুকাটা‑১ ও যাদুকাটা‑২ |
| আশঙ্কিত শ্রমজীবী পরিবার | ১৫–২০ হাজার পরিবার (সূত্র অনুসারে) |
| বর্তমান অবস্থা | ইজারার মেয়াদ শেষ; বালু উত্তোলন বন্ধ |
| জেলা প্রশাসনের প্রস্তাব | মহালগুলো পরবর্তী ছয় মাসের জন্য খাস কালেকশনে নেওয়ার ভাবনা |
এই মুহূর্তে স্থানীয়দের উদ্বেগ ও পরিবেশগত ক্ষতির দাবিটি জেলা প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। খাস কালেকশনে রাখলে নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকলেও, শ্রমজীবীদের নিরাপত্তা, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং নদীর জৈবিক পুনরুদ্ধার—এসব ব্যাখ্যা এবং পরিকল্পনা ব্যতীত শুধু রাজস্ব পুনরুদ্ধার নিজেই পর্যাপ্ত হবে না।
সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ভালো পরিচালনার মাধ্যমে বালুমহাল পরিচালনা করলে, কেবল রাজস্ব নয়—প্রকৃতি ও স্থানীয় মানুষের অধিকারও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।