লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পাড়ে অবস্থিত হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় মাটির ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের প্রবাহ শক্তিশালী হওয়ায় গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ২০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সময়ে উঠতি আমন ধানসহ অন্তত ৩০ একর ফসলি জমি ছাড়াও স্থানীয়রা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব
পানির স্তর নামলেও ভাঙনের গতির কারণে বসতবাড়ি, রাস্তা ও ফসলি জমি প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, স্বপ্নের আমন ধান কেটে গবাদিপশুকে খাইয়ে দিতে হচ্ছে; অন্য কোনো বিকল্প নেই। লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইখুল আরেফিন জানান, এ পর্যন্ত সাড়ে ১০ বিঘা জমির আমন ধান কাঁচা অবস্থায় কেটে ফেলা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ এখনও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কেউ আগেভাগে সতর্কতা হিসেবে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন; কেউ আবার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বসতভিটা রক্ষার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনিক বরাদ্দ না থাকায় দুর্যোগ প্রতিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন বলে তারা জানায়।
“ভুক্তভোগীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদেরকে সহায়তা দেওয়া হবে।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে পাওয়া কথার সারমর্মের এই ঘোষণা থাকলেও প্রভাবিত মানুষেরা জরুরি ইন্ধন, শস্য সংরক্ষণ ও অস্থায়ী আশ্রয়ের প্রাপ্যতা না পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ও ঝুঁকি
সরেজমিনে দেখা গেছে—চটজলদি স্রোতের ধাক্কায় নদীর পাড় ধুয়ে পড়ছে; কোথাও বসতভিটা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, আবার কোথাও ভাঙনের ধারে রয়েছে ঘরবাড়ি। এভাবে প্রতিনিয়ত জমি বিলীন হওয়ার ফলে এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষরা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
কী করা যেতে পারে: স্থানীয় দরকারি ব্যবস্থা
- তাত্ক্ষণিক জরুরি আশ্রয় ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা।
- ভাঙন বিরোধী অস্থায়ী ব্যারিয়ার (বস্তাবাঁধাই বা বালি ভর্তি ব্যাগ) বসানো এবং জরুরি পরিকল্পনা ভিত্তিক পুনর্বাসন তালিকা প্রস্তুত করা।
- কৃষকদের জন্য ফসল সুরক্ষার বিকল্প ব্যবস্থা বা ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি তৎপরতা থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব; কিন্তু যেসব পরিবার রাতারাতি ঘরবাড়ি হারিয়েছে, তাদের জরুরি সাহায্য এখনই প্রয়োজন।
অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানান, পানি কমার সময় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে, কিন্তু এ সময়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ বা বড় ধাঁচের প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব না থাকলে ক্ষতিগ্রস্তদের বাঁচানো কঠিন। পুনর্বাসন, ঝুঁকি নিরূপণ ও নদী সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসী ও বিশেষজ্ঞদের।
| ঘটনা | পরিমাণ/অবস্থা |
|---|---|
| ঘরবাড়ি বিলীন পরিবার | ২০টি (কমপক্ষে) |
| ফসলি জমি ক্ষতি | প্রায় ৩০ একর (উঠতি আমনসহ) |
| কাটা আমন ধান | সাড়ে ১০ বিঘা কাঁচা অবস্থায় কাটা |
স্থানীয়রা অনেকে প্রশাসনের কাছে দ্রুত সহায়তা ও স্থায়ী সমাধান দাবি করছেন। প্রশাসন বলছে তালিকা তৈরি হচ্ছে এবং সহায়তা দেয়া হবে—তবে সেটা কবে ও কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই অনিশ্চিত।
এই মুহূর্তে জরুরি দরকার—অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্য ও কৃষকদের জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার পাশাপাশি নদী ভাঙন মোকাবিলায় তথ্যভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ। না হলে তিস্তার এই ভাঙন অনেক পরিবারের জীবিকা ও এলাকায় স্থায়ী ক্ষয়ক্ষতি রেখে যাবে।