লালমনিরহাট থেকে প্রতিবেদক: জেলার সদর উপজেলা নির্মাণশ্রমিক ফেডারেশনের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশি বাধার কারণে বৃহস্পতিবার তা পণ্ড হয়েছে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামাগুড়ি দিয়ে নগরের মিশন মোড়ের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তোলেন।
কী ঘটেছে — সংক্ষিপ্ত চিত্র
সংগঠনের দাবি—গতকাল বুধবার জেলা পরিষদ মিলনায়তন ভাড়া নেওয়া হয় এবং পরিচালনাকে জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে দাওয়াতপত্রও প্রদান করা হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বিকেলে সভার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু বুধবারের পরিবর্তে বৃহস্পতিবার সকালে মিলনায়তনে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করতে বাধা দেয় পুলিশ, ফলে সভা হয়নি।
“মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে নির্মাণশ্রমিক ফেডারেশন।”
সংগঠনের সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জহুরুল হকসহ অনেকে একে শাসনহীন ও অবৈধ বাধা বলে উল্লেখ করেন এবং এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন।
অভিযোগ ও পুলিশের ব্যাখ্যা
অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় জেলা পরিষদ মিলনায়তন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ময়নুল ইসলাম জানান, মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আলোচনা অনুপ্রবেশকারী অন্য সংগঠনের দাবি পাওয়ায় তারা বলেছে তারা ওই সংগঠনের সদস্য নয় এবং সভা হলে ঝামেলা হতে পারে। তিনি বলেন, তাই তিনি তাদের পুলিশ থেকে অনুমতি নিতে বলেছিলেন। অনুমতি না থাকায় সভা করা হয়নি—এভাবেই তিনি ঘটনার বিবরণ দেন।
সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, সমাবেশের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি প্রয়োজন ছিল এবং তারা তা করেনি। তাছাড়া তাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি সংগঠন একই স্থানে জমায়েত হওয়ার গোপন খবর থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়বদ্ধতায় তাদের সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবি ও উদ্বেগ
নির্মাণশ্রমিক ফেডারেশনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, পূর্বেই ভাড়া নেওয়া ও আমন্ত্রণ জারি করার পরও বাধা দেওয়া হয়েছে। তারা বলছেন, মেহনতি শ্রেণির সংগঠিত হওয়া ও তাদের অধিকার আদায়—এই ধরনের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হলে শ্রমজীবীদের সংগঠনের মৌলিক অধিকারে প্রভাব পড়ে। নেতা কর্মীরা ভবিষ্যতে একই ধরনের বাধার পুনরাবৃত্তি হলে শক্তপোক্ত প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
লালমনিরহাট শহরে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সভা-সমাবেশ প্রায়ই স্থানীয় শ্রমসংক্রান্ত সমস্যা, মজুরি বৈষম্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে হয়ে থাকে। এই ঘটনার ফলে ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হলে শ্রমজীবীদের স্বতন্ত্র অভিব্যক্তি ও সমস্যা আলোচনার মঞ্চে প্রভাব পড়তে পারে—এ বিষয়ে স্থানীয় কর্মী ও নাগরিকরা উদ্বিগ্ন।
- সম্মিলিত অভিযোগ: পূর্বনির্ধারিত স্থান ভাড়া ও ডাকে বাধা রয়েছে।
- মিলনায়তন পরিচালনা: অনুমতির দায়বদ্ধতা উল্লেখ করে পুলিশ অনুমতি নিতে বলা হয়েছিল।
- পুলিশের বক্তব্য: জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছিল না এবং সাংঘর্ষিক অন্য সংগঠনের গোপন খবর ছিল।
ঘটনার পাঁচটি মূল ধারা
| প্রতিপক্ষ | যা বলেছে |
|---|---|
| নির্মাণশ্রমিক ফেডারেশন | মিলনায়তন ভাড়া ও ডাকা সভা পুলিশ বাধা দিয়ে পণ্ড করেছে |
| মিলনায়তন পরিচালনা | ঝামেলার আশঙ্কায় পুলিশ অনুমতি নিতে বলা হয়েছিল |
| সদর থানা ওসি | জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছিল না; সংঘর্ষের গোপন খবর ছিল |
পরবর্তী করণীয় ও পাঠকের জন্য তথ্য
এই ঘটনায় স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—তার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা নেই। ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে গণজমায়েত ও সমাবেশ সম্পর্কিত নিয়মাবলী সম্পর্কে পরিষ্কার নির্দেশনা, অফিসিয়াল অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংযুক্তি প্রয়োজন। স্থানীয় সংগঠনগুলোকে তাদের সভা-সমাবেশের জন্য আগাম প্রশাসনিক অনুমতি গ্রহণ, মিলনায়তনের নিয়ম ও পুলিশকে সতর্কভাবে অবহিত করার পরামর্শ কর্মীদের নিরাপত্তা ও সভার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কার্যকর হবে।
এই ঘটনার পর নির্মাণশ্রমিক ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যদি আইনি বা প্রশাসনিক পর্যায়ে কোনো নোটিশ বা পদক্ষেপ নেয়া হয়, সেটি আমাদের পাঠকরা আশা করা অনুসারে দ্রুত জানানো হবে।
রিপোর্টিং: লালমনিরহাট প্রতিনিধি; সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংগ্রহ করে সংকলিত।