লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় আমন মৌসুমে প্রয়োজনীয় পরিমাণে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পাওয়া এবং বাজারে সারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগে সোমবার সকালে কয়েক হাজার কৃষক লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়কের একটি অংশ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। আন্দোলনকারীরা সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান নেয়ার ফলে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
অবরোধের কারণ ও কৃষকদের দাবি
কৃষকদের অভিযোগ, আমন চাষের সময় জমিতে সার না দেওয়া হলে ফসলের উৎপাদনে বড় ক্ষতি হবে। তারা বলছেন, ডিলারদের কাছে সরকারি নির্ধারিত দামে সার না মিললেও খুচরা দোকানগুলোতে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে, ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কাশীরাম এলাকার কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, “আমন মৌসুমে সারের বাড়তি দামের কারণে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ না করা হলে কৃষকেরা আরও সংকটে পড়বেন।”
দাবি-বিবরণে মূল্য ব্যবধান
কৃষকরা সরকারের নির্ধারিত মূল্যের সাথে বাজার মূল্য মিলছে না বলে যে তথ্য দিয়েছেন, সেটি প্রতিবেদনে উঠেছে। মূল অভিযোগ অনুযায়ী:
- টিএসপি বস্তার নির্ধারিত মূল্য: ১,৩৫০ টাকা; বাজারে বিক্রি হচ্ছে: প্রায় ২,২০০ টাকা
- ডিএপি নির্ধারিত মূল্য: ১,০৫০ টাকা; বাজারে বিক্রি হচ্ছে: ১,৭০০–১,৮০০ টাকা
- ইউরিয়া নির্ধারিত মূল্য: ১,৩৫০ টাকা; বাজারে বিক্রি হচ্ছে: প্রায় ১,৮০০ টাকা
| সারের নাম | সরকারি নির্ধারিত মূল্য (প্রতি বস্তা) | কৃষকদের অভিযোগ করে বাজার মূল্য (প্রতি বস্তা) |
|---|---|---|
| টিএসপি | ১,৩৫০ টাকা | ~২,২০০ টাকা |
| ডিএপি | ১,০৫০ টাকা | ১,৭০০–১,৮০০ টাকা |
| ইউরিয়া | ১,৩৫০ টাকা | ~১,৮০০ টাকা |
প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রতিশ্রুতি
অবস্থানকারীদের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ও থানা পুলিশ। ইউএনও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলার পর বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সার বিতরণ করা হবে—ইউএনওর আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
“আগামী দুই দিনের মধ্যে সারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে,”
অভিযোগ ও ঘটনার প্রেক্ষিতে লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সাইফুল আরেফিন সংবাদে জানান, চলতি মৌসুমে সারের কোনো সংকট নেই এবং ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, কী কারণে কালীগঞ্জ এলাকায় এ ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিন্তু কৃষকেরা বলছেন, মাঠে সময় মত সার না পৌঁছালে আমন ফসলের ভালো ফলন সম্ভব হবে না। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি ও আয়ের অনিশ্চয়তা বাড়বে। প্রশাসনের আশ্বাস থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি বা ডিলার স্তরে অনিয়ম থাকলে সময়মত তদারকি জরুরি বলে কৃষকদের ধারণা।
এ ঘটনা লালমনিরহাটে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য নিরাপত্তার প্রসঙ্গে স্থানীয় স্থায়ী উদ্বেগকে সামনে এনেছে। সারের সঠিক ও সময়োচিত বিতরণ নিশ্চিত করা না হলে সামনের মৌসুমগুলোতে ফলন ও কৃষিকাজে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে—বিশেষ করে যেখানে আমন-বোরো সারের নির্ভরতা বেশী। স্থানীয় প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেবে এবং আগামি দুই দিনে সরবরাহ বাস্তবায়ন হবে কিনা, তা স্থানীয় কৃষকদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।