লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আফরোজা বেগম (১৮) নামের এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মরদেহ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত চলে গেছে।
ঘটনার সময়রেখা ও পরিবারের বক্তব্য
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আফরোজা বেগম গত শনিবার রাতে বাবাকে ফোন করে স্বামীর কাছ থেকে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন এবং ফোনে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, "আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।" কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরের দিন রোববার ঢাকার গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আফরোজার মৃত্যু ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে।
"গাজীপুরের বাসায় আফরোজাকে তার স্বামী কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে। লাশের পুরো শরীরে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে," বলেন নিহতের চাচাতো বোন শাপলা বেগম।
পরিবারের দাবি, রোববার রাতে স্বামী দীন ইসলাম তাঁর পিতাকে ফোন করে জানায় যে আফরোজা অসুস্থ হয়েছেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার জন্য টাকা পাঠাতে বলা হয়েছে, পরে বলে দেওয়া হয় তিনি মারা গেছেন। সোমবার সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আফরোজার লাশ নিথক গ্রামের স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। স্থানীয়রা বলেন, অচেনা একটি গাড়ি থেকে মরদেহ টেনে তুলে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে দ্রুত সেই গাড়ি চলে যায়।
পুলিশের কর্মকাণ্ড ও অভিযোগের বিরোধী বক্তব্য
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল তৈরি করেছে। লাশের সঙ্গে ঢাকার একটি হাসপাতালে কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে; ওই কাগজপত্রে চিকিৎসকরা মৃত্যুকে বিষপান উল্লেখ করেছেন।
"মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে," ওসি এসব কথা জানান।
তবে নিহতের সাক্ষীস্বজনরা বলছেন মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তারা আফরোজা কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছেন। পরিবার এই ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেছে।
পটভূমি ও সামাজিক প্রভাব
নিহত আফরোজা বেগম কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে; তিনি নিথক গ্রামের দীন ইসলামের স্ত্রী। প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে জীবিকার তাগিদে তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। পরিবার ও গ্রামবাসী জানিয়েছে, বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্যে কলহ ছিল এবং স্বামী নিহতাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি এবং প্রাথমিক তথ্য
- নিহতের নাম ও বয়স: আফরোজা বেগম, ১৮ বছর।
- গৃহবধূর গর্ভকাল: প্রায় পাঁচ মাস গর্ভবতী বলে পরিবার জানায়।
- অবস্থান: কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রাম, স্বামীর বাড়ি।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, লাশের শরীরে একাধিক কাটা ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহতের স্বজনরা দাবি করেন, হাসপাতালে যাওয়ার জন্য তাদের কাছে চিকিৎসার টাকা চাওয়া হয়েছিল, যা না দিয়েই লাশ বাড়িতে ফেলে পালিয়ে গেছেন স্বামী-শ্বশুরবাড়ির কেউ কেউ।
ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরবর্তী ধাপ
পুলিশ জানায়, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশের করা সুরতহাল ও হাসপাতালের নথি বিশ্লেষণ করা হবে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে কী ধারা প্রযোজ্য হবে তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের শেষে নির্ধারিত হবে বলেও ওসি জানান।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নামে | আফরোজা বেগম, ১৮ |
| স্থায়ী নিবাস | নওদাবাস গ্রাম, চন্দ্রপুর ইউনিয়ন |
| ঘটনার স্থান (লাশ উদ্ধার) | নিথক গ্রাম, চলবলা ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ |
| ময়নাতদন্ত প্রেরণ | হ্যাঁ (চলমান) |
এই ঘটনার পেছনে যদি পরিবারের অন্তর্গত সহিংসতা থেকে খুন সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে তা স্থানীয় সমাজ ও আইনশৃঙ্খলার জন্য গুরুতর ইস্যু। স্থানীয়দের দাবি ও হাসপাতালের নথিপত্র বিবেচনায় এনে পুলিশকে দ্রুত কার্যকর ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করতে হবে বলে স্থানীয় সমাজবিজ্ঞানী এবং নারীর অধিকার কর্মীদের এখনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিবার বিচার দাবি করেছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতি অনুসরণ করে জরুরি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্থানীয় বার্তা ও ঘটনার বিবরণ সার্বক্ষণিকভাবে আপডেট থাকবে।