আদিতমারীর উপজেলা বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারা সাংসদ রোকন উদ্দিন বাবুল-এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ তুলে সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। অভিযোগগুলোতে গঠনগত অনিয়ম, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং ব্যক্তিস্বার্থে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে।
অভিযোগের সারমর্ম
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করে দাবি করেন, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি দলীয় মূলধারা ও প্রবীণ নেতাদের উপেক্ষা করে অনিয়মভিত্তিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বক্তব্যে আরও বলা হয়, এমপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজের ইচ্ছামতো উন্নয়ন কার্যক্রম করছেন, যা দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের পর থেকে এমপি কোনো মূল্যায়ন সভা করেননি এবং এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নেই। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্র ও তৃণমূলের নির্দেশনা অমান্য করে আগামী ১৮ আগস্ট আদিতমারী জিএস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে একটি বিধিবহির্ভূত সভার আহ্বান করা হয়েছে, যার বিষয়ে মূল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অনভিজ্ঞ।
সংবাদ সম্মেলনের উপস্থিতি ও বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, আদিতমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরুল ইসলাম (ইসলাম মানিক), জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আবু ইয়াহিয়া ইউনুছ আহম্মেদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসানুল বান্না, সদস্য সচিব আবু বাক্কার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহারিয়ার আলম রনি ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল হালিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা এমপির কর্মকাণ্ডকে দলীয় অগ্রগতির বিরুদ্ধে বলে অভিহিত করেছেন।
‘ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে না পেরে কিছু নেতা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলেছেন। আমার সঙ্গে তৃণমুল বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে এবং আমার বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।’
এ বক্তব্যটি সোমবার রাতে এমপি রোকন উদ্দিন বাবুলের দেওয়া প্রতিক্রিয়া থেকে সংগৃহীত। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছেন যে, কিছু নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগত স্বার্থ সম্পাদনের কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।
স্থানীয় প্রভাব ও বিতর্কের প্রসঙ্গ
এমন অভিযোগ স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। দলের শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের বিষয়টি গঠনমূলক রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, নেতাদের দাবি-অভিযোগ এবং সংসদ সদস্যের প্রতিক্রিয়া—উভয়ই ভবিষ্যতে দলের কার্যক্রম এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ওপর প্রভাব ফেলবে।
উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে এ ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ভোগ্য ও উন্নয়নমূলক কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, বিশেষত যখন অভিযোগগুলোর মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প ও সংস্থান বণ্টনের অনিয়মের উল্লেখ আছে।
কী দাবি করা হয়েছে—সংক্ষিপ্ত তালিকা
- দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করা
- বৃদ্ধ ও প্রবীণ নেতাদের উপেক্ষা করা
- কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নির্দেশনা অমান্য করে বিধিবহির্ভূত সভা আহ্বান
- নির্বাচনের পর স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের অভাব
| তারিখ/ঘটনা | বর্ণনা |
|---|---|
| ১৫ আগস্ট | বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের সময় কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের পরে এমপির নির্দেশে দলীয় কার্যালয়ে তালা ভেঙে আরেকটি সভা করা হয়েছে—বিএনপি নেতারা ক্ষুব্ধ |
| ১৮ আগস্ট (ঘোষিত) | আদিতমারী জিএস মডেল স্কুল মাঠে বিধিবহির্ভূত সভার বিরোধিতা |
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি বলা হয়েছে গত ১৫ আগস্ট-এ নির্ধারিত কার্যক্রম শেষে উপেক্ষা করে এমপির নির্দেশে উপজেলা দলের কার্যালয়ের তালা ভেঙে আরেকটি সভা হওয়ার অভিযোগ এসেছে, যা তৃণমূল নেতাকর্মীদের ক্ষুব্ধ করেছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরোৎকণ্ঠার বিষয় হলো—স্থানীয় নেতৃত্ব ও সাংসদের মধ্যে দ্বন্দ্ব যদি বাড়ে, তাহলে দলের আভ্যন্তরীণ ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভোটব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির বা কেন্দ্রীয় কোনো প্রতিক্রিয়া থিতু না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং নেতাদের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন দেখা দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ঘটনায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা-সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
আমরা চেষ্টা করেছি এই অভিযোগ-প্রতিযোগিতার উভয়পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন করতে। ভবিষ্যতে এই ঘটনার পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা জানানো হলে পরবর্তীতে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।