লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে সোমবার ভোরে নিজের বাড়ির উঠান থেকে ১৮ বছর বয়সী আফরোজা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আফরোজা ছিলেন সন্তানসম্ভবা। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী দীন ইসলাম ও তার পরিবার বাড়ি থেকে পালিয়ে রয়েছে—স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ ও পরিবার—দুই ভিন্ন ব্যাখ্যা
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সঙ্গে উত্তরার একটি হাসপাতালের নথি পাওয়া গেছে, যেখানে বিষপানে মৃত্যুর কথাও উল্লেখ রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায়শই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে নিহত আফরোজার বাবা আলফেস আলী দাবি করেছেন, তাদের মেয়েকে গাজীপুরের বাড়িতে তার স্বামী কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বলেছেন, নিহতের চিকিৎসার জন্য স্বজনদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল; টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাদের কাছেই লাশ ফেলে পালিয়ে যায় দীন ইসলাম ও তার পরিবার। আলফেস আলী কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
দীন ইসলামের মোবাইল কথোপকথনে তিনি বলেছেন, “পারিবারিক কলহের জেরে আমার স্ত্রী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে।”
স্থানীয়দের বর্ণনা ও পুলিশি পদক্ষেপ
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকালে একটি গাড়ি করে গাজীপুর থেকে মরদেহ নিয়ে আসে দীন ইসলাম। মরদেহ বাড়ির উঠানে নামিয়ে দ্রুত চলে যাওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। ওসি আবু সিদ্দিক জানান, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার অভিযোগ আছে, তাই ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিরূপণ করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তার সূত্র ধরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার সময়রেখা (সংক্ষিপ্ত)
| ঘটনার প্রাথমিক ধাপ | জেরায় পাওয়া তথ্য |
|---|---|
| বিবাহ ও বসবাস | প্রায় এক বছর আগে নিথক গ্রামের আফরোজার বিয়ে হয়েছে; দাম্পত্য জীবনে তারা গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ভাড়া বাসায় ছিলেন। |
| মরদেহ উদ্ধার | সোমবার সকাল—নিধন্তের মরদেহ বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার। |
| প্রাথমিক সাক্ষ্য | পুলিশ নথি ও পরিবারের দাবি: নথিতে বিষপানে মৃত্যুর কথা, পরিবারের দাবি—হত্যা ও নির্যাতনের চিহ্ন। |
গুরুত্ব ও অনুসন্ধানের দাবী
ঘটনাটি স্থানীয় সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। একজন গৃহিণী ও গর্ভবতী মেয়ের রহস্যময় ও বিতর্কিত মৃত্যু নিয়মিত তদন্তের দাবি তুলেছে এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার। পরিবারের অভিযোগ—শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকা, চিকিৎসার পকশ জন্য টাকা চাওয়া এবং পরে মরদেহ পাশবাড়িতে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়া—এসব বিষয় ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক বিবেচনার মাধ্যমে যাচাই করা দরকার বলেই স্থানীয়রা মনে করেন।
ওসি আবু সিদ্দিক বলেছেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে এবং প্রাসঙ্গিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের অনুরোধে মামলা ও তদন্ত দ্রুততর ভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে।
- নিহত: আফরোজা বেগম, ১৮ বছর
- বিবাহিত: প্রায় এক বছর; স্বামী—দীন ইসলাম (২৪)
- তৎপরতা: মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে; অভিযুক্ত স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন
এই ঘটনার নেপথ্যে সত্যিকার কারণ উদঘাটন করতে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, পরিবারের বিবরণ, স্থানীয় সাক্ষীদের বক্তব্য ও গাজীপুরের ভাড়া বাসার পরিস্থিতি—এসব মিলিয়ে তদন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এলে ঘটনার আরও স্পষ্ট চিত্র প্রকাশ পাবে।
লালমনিরহাটে শামীম রেজা, উৎস: পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।