লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধরলা নদীতে অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ শুনে দোকানে হয়ে গত বুধবার ধরলা সেতু এলাকায় গেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে কঠোর মন্তব্য করেন এবং জনগণকে শক্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি নির্দেশ দেন, কেউ অবৈধভাবে পাথর তুললে তা আটক করে তাঁকে ফোন করে জানানোরও অনুরোধ করেন।
সংসদ সদস্যের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগে ছড়ানো ভিডিও
একটি প্রায় ১ মিনিট ১৩ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সংসদ সদস্যকে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলতে শোনা যায় যে জনগণকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং পুলিশের কিছু সদস্য যদি পাথর উত্তোলনকারীদের সহায়তা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিডিওতে তিনি বলেন—
“যখন পাথর তুলবে, এক্কেবারে মসজিদে আজান দিয়া ওইগুলাক ধরবেন, জনগণ বাহির হয়া ধরবে। তারপর আমাক ফোন দিবেন, দেখি কোন পুলিশ আসি ওমাক (ওদের) সাহায্য করে।”
সংসদ সদস্য ভিডিওতে আরও বলেন, জনগণকে এখন প্রস্তুত হতে হবে, কারণ কিছু পুলিশকে দিয়ে পাথর উত্তোলনকারীরা নিজেকে রক্ষা করে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ ব্যাপারে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, সংসদ সদস্যের বক্তব্যের ভিডিও তিনি দেখে ফেলেছেন এবং বতাযা যে গভীর রাতে বা ভোরবেলা নৌকায় গিয়ে চরাঞ্চল থেকে মাঝেমধ্যে পাথর উত্তোলন করা হয়; পুলিশ গেলে তারা সটকে পড়ে। পাশাপাশি লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ভিডিওটি দেখেছেন এবং বলেন যে এসব ঘটনায় পুলিশের জড়িত থাকার কথাটা ঠিক নয়।
| আকর্ষণ | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | পাটগ্রাম উপজেলা, ধরলা সেতু এলাকা, লালমনিরহাট |
| প্রতিক্রিয়া | সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের হুঁশিয়ারি ও জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান |
| পুলিশের মন্তব্য | ওসি: ঘটনাগুলো গভীর রাতে ঘটছে; পুলিশে দোষারোপের বিষয়ে এসপি আপত্তি প্রকাশ |
প্রতিবেশী ও স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অবৈধ পাথর-বালু উত্তোলন নদীতীরের ক্ষয়-ক্ষতির কারণ হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে নদী পরিবেশ ও চরাঞ্চলের জনজীবনে প্রভাব ফেলবে। সংসদ সদস্যের বক্তব্যে জনসমক্ষে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে; তিনি স্থানীয়দের এ কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে বলার পর কিছু প্রশ্ন উদ্ভব হয়েছে যে আইনগত দিক থেকে কীভাবে এই কাজটি সম্পন্ন হবে এবং প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে।
কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা
- তদন্ত ও মনিটরিং: গভীর রাতে ও ভোরবেলা নদী থেকে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি জরুরি।
- প্রশাসনিক জবাবদিহি: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ থাকলে স্বচ্ছ তদন্ত করে ফলাফল জানানো প্রয়োজন।
- স্থানীয় অংশগ্রহণ: জনগণকে পরিবেশ রক্ষা ও অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে সহায়তা করানো জরুরি, যাতে আইনভঙ্গ নাটকীয় না হয়।
সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান যে স্থানীয়রা মৌখিকভাবে অভিযোগ করলে তিনি তাদের কথা শুনে এ বিষয়ে ভূমিকা নিতে বলেছেন এবং পুলিশকে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। পাটগ্রাম থানা ও জেলা পুলিশ সুপারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, পুলিশের জড়িত থাকার যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলে বোঝা যায়।
এই ঘটনাটি লালমনিরহাট জেলার জন্য পরিবেশগত ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্ব বহন করে—নদীর স্বার্থে ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।