ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলের সরাসরি সংযোগ পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ট্রেনটির কক্সবাজারগামী প্রথম যাত্রার উদ্বোধন করবেন—চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নতুন সার্ভিসের সময়সূচি ও ব্যবস্থা
রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা থেকে রাত সাড়ে আটটায় ট্রেনটি ছেড়ে পরের সকাল ছয়টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফেরার পথে কক্সবাজার থেকে সকাল আটটায় ট্রেনটি ছেড়ে দুপুর বারোটা বিশ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ঢাকায় ঢুকবে। ট্রেনটি সপ্তাহে এক দিন—রোববার—নিষ্ক্রিয় থাকবে।
| মামলা | যাচ্ছেন | ফেরত |
|---|---|---|
| চলাচল সময় | ঢাকা ছাড়া: রাত সাড়ে ৮টা → কক্সবাজার পৌঁছানো: সকাল ৬টা | কক্সবাজার ছাড়া: সকাল ৮টা → চট্টগ্রাম পৌঁছানো: দুপুর ১২:২০, ঢাকা পৌঁছানো: সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা |
| কোচ ও আসন | কোচ: ১৬টি, আসনসংখ্যা: ৭০৬ থেকে ৭৩৬ পর্যন্ত | |
রুট ও স্টপেজ: নতুন করে সুযোগ
রেল পূর্বাঞ্চলের সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটিকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করার ফলে ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশন, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনের যাত্রীরাও সরাসরি কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের ফলে পর্যটন বৃদ্ধি পাবে এবং রেলের আয়ও বাড়বে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
টিকিট সংগ্রহ ও অনলাইন নিবন্ধন
টিকিট বিক্রি ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। অনলাইন টিকিট কিলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে যেতে হবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ এবং সচল মোবাইল নম্বর থাকা প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণ নির্দেশনাসমূহের সারমর্ম:
- ওয়েবসাইটে গিয়ে 'Register' অপশনে ক্লিক করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
- আবশ্যক তথ্য—এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে।
- নিবন্ধনের সময় মোবাইলে পাঠানো নিরাপত্তা কোড দাখিল করে আনুষাঙ্গিক তথ্য যাচাই করতে হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি
কক্সবাজার—দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একজন—রেল যোগাযোগের উন্নতি স্থানীয় ব্যবসা ও পর্যটন খাতকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন সেবা, ছোট ব্যবসায়ীরা অপেক্ষাকৃত দ্রুত লভ্য সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় স্থানে ভ্রমণশ্রীতি বাড়লে পরিবহন ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়বে—স্টেশন—টিকিটিং কাউন্টার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তৎপরতা বাড়ানো অপরিহার্য হবে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজারের উদ্ধৃতি সরাসরি প্রকাশ করা না হলেও তিনি নতুন ট্রেন চলাচল নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। পূর্ববর্তী সময়গুলিতে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস বিরতিহীন থাকায় ঢাকার কিছু মাঝবর্তী স্টেশন থেকে সরাসরি সুবিধা মেলেনি—এখন তা বদলে যাচ্ছে।
ভ্রমণ পরিকল্পনা করার পরামর্শ
যারা কক্সবাজার যেতে চান, তারা টিকিট কাটা ও যাত্রার পূর্ব পরিকল্পনায় নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারেন:
- অনলাইন টিকিট সাইটে আগে থেকে নিবন্ধন করে রাখুন—সিস্টেমে অনেক সময় ভিড় থাকায় আগে থেকে সিট নিশ্চিত করা সুবিধাজনক।
- রুটে থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যবর্তী যাত্রী উঠানামা ও সময় বিবেচনায় ভ্রমণসূচি স্থির করুন।
- রেলের নির্ধারিত সপ্তাহিক বন্ধদিন (রোববার) লক্ষ্য রাখুন এবং প্রতিদিনের রুট টাইমিং মাথায় রেখে লোকাল যোগাযোগ নিশ্চিত করুন।
ঢাকা—কক্সবাজার রুটে 'মহানগর এক্সপ্রেস' পুনরায় যুক্ত হওয়া স্থানীয় জনজীবন ও পর্যটনে নতুন গতি আনবে—এই প্রত্যাশা রেল কর্তৃপক্ষ ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। বিস্তারিত সময়সূচি ও টিকিট সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে নজর রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
রিপোর্ট: জান্নাতুল ফেরদৌস
কক্সবাজার প্রতিনিধি, WE NEWS