জেলায় মাদক আগ্রাসন ও সাম্প্রতিক জব্দ
দেশের সর্ব দক্ষিণ সীমান্ত জেলা কক্স বাজারে মাদক প্রসার ও পাচার রয়ে গেছে মারাত্মক চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছরই মিয়ানমারের সঙ্গে থাকা স্থল ও জল সীমান্ত পেরিয়ে ইয়াবা ও আইস জাতীয় মাদকের চালান প্রবেশ করছে। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এলাকা থেকে নিয়মিত নাশকী পদার্থ জব্দের খবর যাচ্চে—শহর ও গ্রামের মানুষ উদ্বিগ্ন।
গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সরকারি কলেজের নারী হোস্টেল দোলনচাপায় এক শিক্ষার্থীর খাটের নিচে ২০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সদর থানা পুলিশ। ওই শিক্ষার্থী সম্পর্কে সূত্রে বলা হয়েছে তিনি স্নাতক (সম্মান) গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীরূপে নাম তালিকায় ছিলেন এবং পুলিশের দাবি, মাদকের চালান কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছেছিল। একই সময়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা মেরিন ড্রাইভ সড়কের রামুর খুনিয়াপালং এলাকার প্যাঁচারদ্বীপে তল্লাশিতে ৮৯,৪০০ পিস ইয়াবা জব্দ ও এক পাচারকারীকে আটক করে।
আইনি ও বিচারিক জটিলতা
উল্লেখযোগ্য যে জেলায় এমন ধরনের মামলার সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী জেলা জেলায় বর্তমানে পাঁচ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধভুক্ত প্রায় ৬ হাজার মামলা বিচারাধীন আছে। সময় লাগায় ও এজলাস না থাকায় অনেক মামলার বিচারে বিলম্ব হচ্ছে—ফলশ্রুতিতে অপরাধ দমনে গতি আসে না।
ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা ও সীমাবদ্ধতা
এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কক্সবাজার বিচার বিভাগে বিশেষভাবে তিনটি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়েছে। এ ট্রাইব্যুনালগুলোর কাজ সীমাবদ্ধভাবে কেবল ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী দায়ের করা এবং ৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য মামলার বিচার কার্যক্রম চালানো হবে। তবে নতুন এজলাস স্থাপনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকায় বিচার কার্যক্রম বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত শাখাগুলোর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানকারীদের ভূমিকায় একাধিক প্রতিষ্ঠান
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজারে বিভিন্ন সংস্থা সমান্তরালে কাজ করছে—
- বিজিবি
- থানা পুলিশ
- এসআরবি
- গোয়েন্দা সংস্থা
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর
উল্লেখ্য, এসব সংস্থা যৌথভাবে বিভিন্ন স্পট থেকে চালান জব্দ ও পাচারকারী গ্রেফতার করছে; সেই সঙ্গে মামলাও দায়ের করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
শহর ও জেলা জুড়ে শিক্ষাঙ্গন, পরিবার এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নারী শিক্ষার্থীর হোস্টেল কক্ষে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ হওয়ার ঘটনা সমাজে বিশেষভাবে সচেতনতা বাড়িয়েছে। পর্যটনভিত্তিক অর্থময় কক্সবাজারে মাদকের বিস্তার জনস্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা উভয়ের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“প্রতিদিন জেলার স্থল ও জলসীমায় বিপুল ইয়াবা জব্দ হচ্ছে; বিচারিক জটিলতা আর নতুন এজলাসের অভাবে দ্রুত কার্যকর বিচার কঠিন হয়ে পড়েছে,”—স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সূত্রে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
পরবর্তী করণীয় ও চ্যালেঞ্জ
ট্রাইব্যুনাল গঠন কাজটি অবশ্যই একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ; কিন্তু কার্যকরীভাবে মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করতে হলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন প্রয়োজন—
- নিয়ন্ত্রিতভাবে নতুন এক বা একাধিক এজলাস স্থাপন ও সরঞ্জাম যোগ করা।
- আদালতি প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে পর্যাপ্ত বিচারক ও সহায়ক কর্মীবৃন্দ নির্ধারণ।
- আঞ্চলিক সীমান্ত তদারকিতে সমন্বিত কুশল বৃদ্ধির মাধ্যমে পাচার রোধ।
| আয়োজিত অভিযান | জব্দ মাদক (পিস) |
|---|---|
| কক্সবাজার সরকারি কলেজ হোস্টেল | 20,000 |
| মেরিন ড্রাইভ (রামু প্যাঁচারদ্বীপ) | 89,400 |
এবারের অভিযানগুলো মাদক চক্রের গভীরতা ও সীমান্ত অতিক্রমের ধরন সম্পর্কে জানালেও সমগ্র লড়াইয়ে বিচারিক গতি ও সুশৃঙ্খল সমন্বয়ই চূড়ান্ত ভুমিকা পালন করবে। কক্সবাজারবাসী আশা করছে কেবল জব্দ নয়—দোষীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচারের মধ্যদিয়ে একটি স্থায়ী বিরতিধারা প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে পর্যটন, শিক্ষা ও স্থানীয় জীবনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।