বাংলাদেশ কক্সবাজার কক্স বাজার (45)

চট্টগ্রাম—কক্সবাজার ট্রেন যাত্রা দেড় ঘণ্টায় নেমে আসার পরিকল্পনা, নতুন ৩০ কিলোমিটারের ডুয়েল গেজ লাইন

রেলওয়ে ষোলশহর থেকে দোহাজারী পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ করে চট্টগ্রাম—কক্সবাজার রুটে ট্রেন গতিবেগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে; প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, কাজ শুরু হতে পারে চলতি বছরে এবং সমাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ২০২৮ সালের জুন।

চট্টগ্রাম—কক্সবাজার ট্রেন যাত্রা দেড় ঘণ্টায় নেমে আসার পরিকল্পনা, নতুন ৩০ কিলোমিটারের ডুয়েল গেজ লাইন
©অলংকরণ জান্নাতুল ফেরদৌস / we-news.com

চট্টগ্রাম—কক্সবাজার রেলের দীর্ঘতম ভ্রমণকাল ছোট করে প্রায় দেড় ঘণ্টা করা হচ্ছে—এমন ভাবনা নিয়ে রেলওয়ে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের ষোলশহর থেকে দোহাজারী পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। নতুন নকশা অনুযায়ী লাইনে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানোর উপযোগী করা হবে।

কেন প্রয়োজন?

বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনের ভ্রমণকাল প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। রুটের বিভিন্ন অংশে গতিসীমা ও লাইন অবস্থা মিলিয়ে ট্রেন বাস্তবে অনেক ধীরগতিতে অগ্রসর হয়। উদাহরণস্বরূপ, ষোলশহর থেকে চন্দনাইশের কাঞ্চননগর অংশে অনুমোদিত রেলগতিসীমা হলেও বাস্তবে ট্রেন সেখানে ঘণ্টায় মাত্র ২০–৩০ কিলোমিটার গতিতে চলে। কাঞ্চননগর থেকে দোহাজারী পর্যন্তও গতি বেশিরভাগ স্থানে ৪০ কিলোমিটারের নিচে সীমাবদ্ধ থাকে—এর মূল কারণ পুরোনো ও আঁকাবাঁকা ট্র্যাক।

প্রস্তাবিত লাইনের প্রযুক্তিগত দিক

নতুন লাইনের নকশা মিটার ও ব্রডগেজ উভয় ধরনের রেলে উচ্চগতির সুবিধা বিবেচনায় রেখে করা হচ্ছে। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন জানান, পাহাড়তলী থেকে দোহাজারীর বিভিন্ন অংশে ট্রেনের গতি বর্তমানে ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ওঠানামা করে; নতুন লাইন এ সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ওই সেকশনে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি সম্ভব হবে।

সেগমেন্ট বর্তমান অনুমোদিত/বাস্তব গতিসীমা প্রস্তাবিত/নকশিত সর্বোচ্চ গতি
ষোলশহর—চন্দনাইশ (কাঞ্চননগর) অনুমোদিত: ৬০ কিমি/ঘণ্টা; বাস্তবে ২০–৩০ কিমি/ঘণ্টা ১২০ কিমি/ঘণ্টা (নতুন লাইনে)
কাঞ্চননগর—দোহাজারী অনুমোদিত: ৬০ কিমি/ঘণ্টা; বাস্তবে প্রায় ৪০ কিমি/ঘণ্টা ১২০ কিমি/ঘণ্টা (নতুন লাইনে)
দোহাজারী—কক্সবাজার অনুমোদিত: সর্বোচ্চ ৮০ কিমি/ঘণ্টা নতুন লাইন লক্ষ্যে উন্নত ইনফ্রাস্ট্রাকচার

অর্থায়ন ও সময়সীমা

প্রকল্পে শুধুমাত্র সরকারের নয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও অর্থায়ন প্রদান করবে। রেলওয়ে আশা করছে চলতি বছরেই কাজ শুরু হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হবে ২০২৮ সালের জুনে। কাজ সম্পন্ন হলে কক্সবাজার—চট্টগ্রাম রুটের যাত্রীবাহী গাড়িগুলো গতিশীল ও সময়োপযোগী হবে বলে রেলওয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

চ্যালেঞ্জ ও সতর্কবার্তা

রেলওয়ের কর্মকর্তারা পাশাপাশি সতর্ক করেছেন যে কেবল গতি বাড়ালেই হবে না; ভূপ্রকৃতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে নকশা ও নির্মাণ করতে হবে। সম্প্রতি টানা তিন দিনের শক্তিশালী বৃষ্টিতে রেলপথে পানি জমে চট্টগ্রাম—কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধও হয়েছিল; পূর্বে পাহাড়ি ঢলের কারণে রেললাইনের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সঠিকভাবে সাইট সার্ভে ও প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত কাজ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে বন্যা বা পাহাড়ি ঢলের কারণে রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

স্থানীয় প্রভাব ও ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভ্রমণকাল কমলে পর্যটন ও ব্যবসায়িক যোগাযোগে তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে। দ্রুতগতির ট্রেন যোগাযোগ বাড়ালে স্থানীয় পর্যটনশিল্প, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন এবং সেবাখাতগুলোে ইতিবাচক গতিশীলতা দেখা দেবে—বিশেষত পর্যটকপ্রবাহ বাড়ার সময়ে। একই সঙ্গে ট্রেন যাতায়াতে নির্ভরতাও বাড়বে, ফলে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হবে।

পরবর্তী ধাপ

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কথ্য ব্যাখ্যা অনুযায়ী প্রকল্প শুরুর আগে সম্পূর্ণ সাইট জরিপ, ভূ-মৌলিক বিশ্লেষণ এবং পরিবেশগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তুলনা করা হবে। প্রকৌশলীদের পরামর্শ অনুযায়ী পাহাড়ি অংশে অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রণালী রাখা হবে যাতে বন্যা ও মাটি ধসে লাইনে ক্ষতি না হয়।

  • প্রকল্পের দৈর্ঘ্য: প্রায় ৩০ কিলোমিটার (ষোলশহর—দোহাজারী)
  • নকশা অনুযায়ী সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গতি: ১২০ কিমি/ঘণ্টা
  • সম্ভাব্য সমাপ্তির লক্ষ্য: ২০২৮ সালের জুন
  • অর্থায়নকারী: বাংলাদেশের পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক

রেললাইন ঝরনা আর পাহাড়ি ঢলের মতো ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে নির্মাণ করলে এই প্রকল্প কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের মধ্যে নড়বড়ে রেলসংযোগকে স্থিতিশীল, গতিময় ও নিরাপদ করে তুলতে পারে। চূড়ান্ত ডিজাইন ও নির্মাণের সময় প্রকৌশলগত সতর্কতা ও স্থানীয় পরিবেশগত প্রভাব বিশেষ গুরুত্ব পাবে—এই আশায় স্থানীয়রা অপেক্ষা করছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস
জান্নাতুল এআই কক্স বাজার প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি জান্নাতুল, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

45কক্স বাজার

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো কক্স বাজার, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব