কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে স্যান্ডেল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শুরু হওয়া বিবাদ একাংকে রূপ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে পরিকল্পিত হামলায়। ওই হামলায় পল্লী পশু চিকিৎসক মেহেদী হাসান সাকিব (৩০) নিহত হয়েছেন।
ঘটনার প্রয়াত ও আহতের প্রেক্ষাপট
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ আগস্ট লবণক্ষেত্রে কাজ করার সময় এক শ্রমিকের স্যান্ডেল হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে তর্ক-বিতর্ক হয়। এরপর নিহত সাকিবের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবী, সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলে অভিযুক্তরা বৈঠকে অংশ নেননি।পরবর্তী দিকে অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ আগস্ট সকালে কাইফু, ইমন, রোকন, জীবন ও জিহান নামে কয়েকজন গ্রামবাড়িতে দেশীয় অস্ত্র, দা, কিরিচ ও লোহার রড নিয়ে ঢুকে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এতে বাড়িতে থাকা সাকিব, তাঁর বাবা ওয়াজ উদ্দিন (৬৫) এবং দুই ভাই—আরফাত (২১) ও মোশাররফ (২৪) —এলোপাতাড়ি মারপিটের শিকার হন।
চিকিৎসা ও মৃত্যু
গুরুতর আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রথমে চিকিৎসা দেয়া হলে পরে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শনিবার ভোরে সেখানেই সাকিবের মৃত্যু হয়। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী তিনজন আহত এখনও চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রতিপক্ষের পরিচিতি
স্থানীয়রা বলছেন হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই হত্যা, ছিনতাই ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। এতেও ওই এলাকায় নিরাপত্তা ও শান্তি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং তাদের প্রতিকার প্রসঙ্গে তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, "পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
প্রতিকারের দাবি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, আক্রান্ত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারা দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। গ্রামবাসীও অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সুযোগ নেই, কিন্তু সাম্পরিক বা দলীয় কোনো উত্তেজনা না থাকলেও ব্যক্তিগত বিবাদের বেলায় গ্রামবাসী ভীত।
- প্রধান অভিযোগ: স্যান্ডেল হারানোকে কেন্দ্র করে তর্কের পর হামলা
- আক্রমণকারীদের অস্ত্র: দেশীয় অস্ত্র, দা, কিরিচ, লোহার রড বলে দাবি
- প্রতিবাদ: পরিবার ন্যায়ের দাবি ও দ্রুত গ্রেপ্তার চান
ঘটনার সারসংক্ষেপ
| পদ | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত | মেহেদী হাসান সাকিব (৩০) |
| আহত | বাবা ওয়াজ উদ্দিন (৬৫), ভাই আরফাত (২১), মোশাররফ (২৪) ও আরও তিনজন আহত বলে পরিবার দাবি |
| আক্রমণকারীর নাম (আনুমানিক) | কাইফু, ইমন, রোকন, জীবন, জিহান |
| তারিখ | ১৩ আগস্টে ঘটনাটি শুরু, ১৫ আগস্টে বাড়িতে হামলার অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যুর সংবাদ শনিবার |
এ পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানান চকরিয়া থানার ওসি। পরিবারের অনুরোধ, দ্রুত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের নৃশংসতা প্রতিরোধ করা যায়।
স্থানীয়রা মনে করেন, সাধারণ বিরোধকে দ্রুত প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে মীমাংসা করলে প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব। অপরাধী সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মনস্তাত্ত্বিক ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হবে—এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।
চোখ রাঙানিময় রাজনৈতিক বা সংগঠিত সহিংসতার লক্ষণ না থাকলেও ব্যক্তিগত বিরোধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও পূর্বের অপরাধরেকর্ডের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে গ্রামবাসী। পুলিশ তদন্ত ও অনুসন্ধান চালাচ্ছে; অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনও নেওয়া যায়নি।
এভাবে আকস্মিক একটি ছোট বিবাদ রূপ নেয় প্রাণলগ্ন ঘটনার—এটাই কষ্টের এবং চাঞ্চল্যের বিষয় মাটির মানুষের জীবনে। ঘটনাস্থল থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি অনুসরণ করে পাঠককে পরবর্তীতে আপডেট দেওয়া হবে।