উখিয়ার ইনানীর রিসোর্টে রাতভোরে আগুন: দ্রুত ছড়িয়ে এক ঝটকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি
কক্স বাজারের উখিয়া উপজেলায় ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকত-সংলগ্ন একটি তিনতলা কাঠের রিসোর্টে ভোরে আগুন লেগে মোট ১০ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকও আছেন বলে জানা যায়। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থীর নাম নিশ্চিত করা হয়েছে; একই পরিবারের ছয়জনের মরদেহও শনাক্ত করা গেছে।
আগুনের সূত্রপাত ও আগমনী তথ্য
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান যে শনিবার ভোরে ফায়ার সার্ভিসে আগুনের খবর আসে এবং বিস্তীর্ণ ব্যবস্থা নিয়ে তৎপরতা চালানো হয়।
“সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুনের খবর পাওয়া যায়। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”
তবে এই দুই প্রধান সময়ের মধ্যে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে ঊর্ধ্বতন তৎপরতা শুরু হবার আগেই জনহানির ঘটনা ঘটে। সমুদ্রবাতাসের তীব্রতা এবং কাঠের নির্মাণশৈলীর কারণে আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং রিসোর্টটিকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলে।
নিহত ও তাদের পরিচয়
প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা মৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিস তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭)। এছাড়া একই পরিবারের ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), ফারিহা কবির (৩৩) ও আরও অনুপস্থিত এক শিশুসহ অন্যান্য সদস্য।
পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, আগুনে আগের সামান্য বিস্তৃতির সময়ে তিনতলার দুটি শৌচাগারে আশ্রয় নেওয়া চারজনসহ মোট ১০ জনের প্রাণহানি হয়। মৃতদের সম্পূর্ণ তালিকা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ফায়ার সেফটি ও অনুমোদনের অভাব
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায় যে, মাত্র সাত-আট মাস আগে নির্মিত রিসোর্টটিতে কোনো ধরনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং প্রতিষ্ঠানটির কোনো ফায়ার লাইসেন্সও সম্পাদকীয়ভাবে যাচাই করে পাওয়া যায়নি। সমুদ্রতীরবর্তী হওয়ায় প্রচণ্ড হাওয়া কাঠের অবকাঠামোতে আগুনকে ত্বরান্বিত করেছে।
- রিসোর্ট নির্মাণকাল: প্রায় সাত-আট মাস পূর্বে নির্মিত
- অগ্নি নিরাপত্তা: অপ্রতুল/অনুপস্থিত
- ফায়ার লাইসেন্স: অনুপস্থিত
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুনের প্রকৃত সূত্র এবং প্রয়োজনীয় দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করবে বলে জেলা প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত | ১০ জন (প্রাথমিক শনাক্তে ৬ জন একই পরিবারের, দুইজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী) |
| আগুনের খবর পাওয়ার সময় | সকাল ৭:২৩ মিনিট |
| আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সময় | সকাল ৮:১৫ মিনিট |
| তদন্ত কমিটি | ৫ সদস্য, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নেতৃত্বে |
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তি করণীয়
ইউখনীর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা, পর্যটক ও অনতিঞ্চিত কর্মীরা এই ঘটনা থেকে নিরাপত্তা ও লাইসেন্সের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, ওই রিসোর্ট কক্সবাজার উপকূলের প্রিয় পর্যটন এলাকায় হওয়ায় এটি বন্ধ থাকা কালেই আশপাশের অর্থনীতি সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
অপরদিকে, জেলা প্রশাসন ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে যে সকল প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, তাদের জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে—এ আশায় স্থানীয়রা।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দিকগুলো তদন্ত কমিটি, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে যাচাই করবে; নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হচ্ছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
তথ্যসূত্র: স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্যমতে সংগৃহীত রিপোর্ট।