কক্সবাজারের পাহাড়ি জনপদ ধরে যাওয়া ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিনভর সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় জরুরি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী সকাল ও দুপুর—দুই দফায় একদল মুখোশধারী ডাকাত পথ চলতি যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার সারমর্ম
প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দাবি করেছেন যে পুলিশের চোখের সামনে বা নিকটস্থ টহল ব্যর্থ ছিল—ডাকাতির সময় সড়কে কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। একটি গ্রুপ শিকার করে তাদের জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং মারধর করে অর্থ ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয়দের বর্ণনায় এই ডাকাতি দুদফায় মোট আড়াই ঘণ্টার মতো স্থায়ী হয়।
পক্ষপাত ও সংখ্যাগত বৈপরীত্য
স্থানীয় সংবাদকর্মী ও প্রত্যক্ষদৃষ্টারা প্রথম প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন (প্রধানত সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল) ডাকাতদের কবলে পড়ে এবং শতাধিক যাত্রী আক্রান্ত হন। অন্যদিকে জেলা-সংবাদে কিছু রিপোর্টে সংখ্যাটি ১৫-১৬টি যানবাহন হিসেবে জানানো হয়েছে। এই পার্থক্যটি স্থানীয়দের দৃষ্টিতে ঘটনাস্থলের বিশৃঙ্খলা ও প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহে অসুবিধা দ্বারা ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে।
- সময়: সোমবার সকাল ৮টা ও দুপুর ১২টা (দুই দফা)
- অভিযোগিত সংখ্যা: সূত্রভেদে ১৫–৬০টি যানবাহন; শতাধিক যাত্রী
- নজরকাড়া লুটপাট: নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, ব্যাংক চেকবই ও ব্যক্তিগত কাগজপত্র
- ডাকাতদের বৈশিষ্ট্য: মুখোশধারী, সশস্ত্র, ১০–১২ জন বলে প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা
একজন স্থানীয় এনজিও কর্মী, যিনি নিজে আক্রান্ত হয়েছেন, বলেন তাঁর সঙ্গে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও দু'টি মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরেক ব্যক্তির বক্তব্যে বলা হয়েছে তিনজন অটোরিকশায় করে যাচ্ছিলেন; তাদেরকে জঙ্গলে নিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন—এ রাস্তায় গোটা বছর ধরেই নিরাপত্তাহীনতা লেগেই থাকে।
“কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে কিছু যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে,”
এই মন্তব্যটি ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদারের বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়; তবে রাত পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি এবং কয়েকটি দল পাহাড়ি এলাকায় তৎপর রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও ভয়াবহ পরিস্থিতি
স্থানীয়রা বলেন, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলার ওই ১৭ কিলোমিটার টাইপের পাহাড়ি সড়কে নিয়মিতভাবেই ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এজন্য সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ রাখতে হয়। ব্যবসায়ী ও পথচলারা এখন ভয়ে-ভয়ে যাতায়াত করছেন—প্রশাসনের তৎপরতা চান।
পুলিশি পদক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতি
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন সময়ে অভিযান শুরু করেছে এবং রাস্তায় টহল বাড়ানো হয়েছে—তবে স্থানীয়রা বলছেন তা পর্যাপ্ত নয়। প্রশাসনিক স্তর থেকে আগাম সতর্কতা, নিয়মিত টহল ও পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগযোগ্যতার উন্নয়নের দাবি উঠেছে যাতে এ ধরনের সশস্ত্র গ্রুপদের চলাচল সীমিত করা যায়।
সংক্ষিপ্ত ডেটা
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| সময় | সকাল ~৮টা ও দুপুর ~১২টা (দুই দফা) |
| যানবাহন | সূত্রভেদে ১৫–৬০টি (সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল) |
| ক্ষতিগ্রস্ত | শতাধিক যাত্রী—নগদ, মোবাইল, কাগজপত্র ছিনতাই |
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরাপদ পথচলা ও যাত্রী সুরক্ষার বিষয়ে স্থানীয়দের নানা দাবি উঠে আসছে। তৎকালীন পুলিশি তৎপরতা ও পরবর্তী অনুসন্ধানেই জানতে সুবিধা হবে আসল ঘটনা ও অংশগ্রহণকারীদের সঠিক সংখ্যা। সংবাদ সংগ্রহের সময় পুলিশ আরও অভিযান চালিয়ে জড়িতদের শনাক্তিকরণে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজারের পাহাড়ি সড়কে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কার্যকর নীতি গ্রহণ ও স্থায়ী টহল ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হচ্ছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, রাতের মধ্যেই ওই সড়কে চলাচল বন্ধ রাখার প্রথা পুনর্বিবেচনা করে দিনভর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে মানুষ চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ জীবিকা ব্যাহত হবে।