রংপুরে বাস ও মিনিবাস মালিকরা আগামী ১ নভেম্বর থেকে বিভাগজুড়ে সর্বাত্মক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার রাতে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বসুনিয়া লিখিত বক্তব্যপাঠ করে এই হুঁশিয়ারি জানান। মালিকরা বলেছে, যদি বিআরটিএ তাদের বয়সভিত্তিক ফিটনেস সনদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করে এবং ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দেয়, তাহলে ১ নভেম্বর থেকে ধর্মঘট কার্যকর হবে।
মালিকদের দাবি ও যুক্তি
সংবাদ সম্মেলনে মালিকরা জানায়, বিআরটিএর নীতিমালা অনুযায়ী বাস ও মিনিবাসের অর্থনৈতিক আয়ু ২০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, আর ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের জন্য নির্ধারিত আয়ু ২৫ বছর। তারা সতর্ক করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশে নিবন্ধিত বহু যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং গণপরিবহনে মারাত্মক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। মালিকরা ফিটনেস নির্ধারণে বয়সের পরিবর্তে গাড়ির বর্তমান শারীরিক অবস্থা বা কন্ডিশনকে মূল ভিত্তি হিসেবে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
“২০ বছরের পুরোনো বাস ও মিনিবাসের ফিটনেস সনদ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে আগামী ১ নভেম্বর থেকে রংপুর বিভাগে সর্বাত্মক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।”
পরিসংখ্যান এবং সম্ভাব্য প্রভাব
মালিক সমিতি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছে যে, এই নিয়ম মানলে সারা দেশে প্রায় ৫৬ হাজার বড় বাস ও ২৮ হাজার এর বেশী মিনিবাস চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। তার সঙ্গে তারা ২০২৪ সালের রেজিস্ট্রেশন সংখ্যার তথ্য উল্লেখ করে বলেছে, ওই বছরে দেশজুড়ে নতুনভাবে নিবন্ধিত বাসের সংখ্যা মাত্র ১,৭৩৬ এবং মিনিবাস ২২০। মালিকদের বক্তব্য, এই গতিতে পুরনো গাড়ি প্রতিস্থাপন করা অসম্ভব এবং ফলে গণপরিবহনে বড় ঘাটতি দেখা দেবে।
| ধারা | সংখ্যা |
|---|---|
| চলাচলের অযোগ্য হতে পারে (বড় বাস) | ৫৬,০০০+ |
| চলাচলের অযোগ্য হতে পারে (মিনিবাস) | ২৮,০০০+ |
| ২০২৪ সালে নতুন রেজিস্ট্রেশন (বাস) | ১,৭৩৬ |
| ২০২৪ সালে নতুন রেজিস্ট্রেশন (মিনিবাস) | ২২০ |
আর্থিক ও পরিবেশগত উদ্বেগ
মালিকরা আরও জানান, একযোগে প্রচুর যানবাহন বাতিল বা স্ক্র্যাপ করলে পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং হাজার হাজার নতুন বাস আমদানিতে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে, যা রিজার্ভ ও দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তাদের দাবি, নতুন পার্টস সংযোজন করে পুরনো বাস পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও যৌক্তিক পথ।
- মালিকরা বলছেন, ফিটনেস মূল্যায়নে বয়স নয়, গাড়ির বাস্তব কন্ডিশন বিবেচ্য হওয়া উচিৎ।
- ২০১৮ সড়ক পরিবহন আইনের ধারার প্রসঙ্গ টেনে তারা উল্লেখ করেছে যে, চেসিস বদল ছাড়া অন্যান্য যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের জন্য ফি জমা দিয়ে ছাড়পত্র পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
- মালিকেরা অভিযোগ করেছেন, কিছু আমদানিকারক ও স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তাদের সঙ্গে ছিলেন রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির উপদেষ্টা ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং সমিতির সভাপতি—তথ্যসূত্রে তাঁদের নামে উল্লেখ আছে।
রংপুরে প্রভাব ও অপেক্ষা
রংপুর একটি কৃষিনির্ভর অঞ্চল; তাই এলাকার পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও সাধারণ লোকজনের যাতায়াতের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়ে। মালিকদের আন্দোলন হাঙরের মতো গণপরিবহনে শূন্যতা তৈরি করতে পারে—এর প্রভাব কে কতটা সামলে নেবে, সে বিষয়ে সরকার ও বিআরটিএর প্রতিক্রিয়া অপেক্ষা করা হচ্ছে। মালিকরা জানিয়েছে, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে তারা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি কার্যকর করবেন।
এ খবরের প্রেক্ষিতে রংপুরবাসীর জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন হলো: সরকারি নীতিই যদি বয়সভিত্তিক সনদ জারি রাখে, তাহলে যাত্রীসেবা ও পণ্যমার্কেটিং-শৃঙ্খলে কি ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষতি কতটা গভীর হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিআরটিএর প্রতিক্রিয়া জরুরি।