রংপুর নগরীর ঠিকাদারপাড়া মোড়ে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত দুর্গামন্দিরের জমি নিয়ে দায়ের করা বিরোধের জেরে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি। জমির মালিকানা দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে এবং জেলা প্রশাসন দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় মণ্ডপ এলাকায় অস্থিরতা অব্যাহত আছে।
বৈঠক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিতর্কিত জমি ও বিসর্জন শুরুর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে বসানো হয়। জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বৈঠক শেষে জানিয়ে দিয়েছেন যে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রতিমা বিসর্জন কার্যকর করা হবে এবং আগামী রোববার বিচারকের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
“উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে। এখন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। আগামী রোববার বিচারকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে,”
তবে বৈঠকের পরও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ মিটেনি বলে উপস্থিতরা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ও মঠ কমিটির দাওয়াই — উভয়ই প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
দাবিদারদের দাবি ও মন্দির কমিটির অবস্থান
জমির মালিকানা দাবি করে জমির দলিল দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দাবিদার পক্ষের একজন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন দুর্গাপূজার জন্য অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করা হয় এমন পারিবারিক জমিতে এখন জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং অস্থায়ী মণ্ডপকে স্থায়ী মন্দিরে রূপান্তরের পরিকল্পনা চলছে। ন্যায্য বিচার না পাওয়ার কথাও তাদের অভিযোগে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী কমল গোস্বামী বলেন তারা বিজ্ঞ আদালতের রায় মেনে চলবেন। মন্দির সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নেয়া হবে—এ কথা তিনি সভায় উল্লেখ করেছেন।
শান্তি না ভাঙার চেষ্টা: নিরাপত্তা ও জনআন্দোলন
রবিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ঘটনার সূত্রপাতের পর সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। এগুলোকে কড়া নজরদারিতে রাখতে জেলা প্রশাসন বিজিবি মোতায়েন করে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও সেখানে পাঠানো হয়।
- বৈঠকের সময়: সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু, রাত ৮টার দিকে শেষ।
- প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি: প্রতিমা বিসর্জন করা হবে; রোববার বিচারকের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
- নিরাপত্তা পদক্ষেপ: বিজিবি ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় বাৎসরিক অনুশীলন ও সম্প্রদায়িক প্রভাব
শারদীয় দুর্গা পূজার সময় মণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জন স্থানীয় সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। এ ধরনের জমি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব শুধুমাত্র পারিবারিক বিরোধ নয়; তা সম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। রংপুরের এই অংশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে উৎসবকালীন প্রথা ও সামাজিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে—বিশেষত জোরদার দাবি, সড়ক অবরোধ এবং নিরাপত্তা বিধানের কারণে।
সম্ভাব্য পরবর্তী ধাপ
জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসিয়েছে এবং কার্যত প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সম্মতি জানানো হলেও জমি সংক্রান্ত আইনী সিদ্ধান্ত না হলে সংঘাতের সূত্র কাটবে না। আগামী রোববার একটি আদালতসংক্রান্ত বৈঠক এবং তার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপগুলো সংঘাতশীতি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
| ঘটনার ক্রম | তথ্য |
|---|---|
| বিরোধ সূচনা | গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে জমি-দ্বন্দ্ব তীব্রতা লাভ করে |
| প্রশাসনিক বৈঠক | বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা—দিগুণপক্ষের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের আলোচনা |
| নাগরিক প্রতিক্রিয়া | সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও হাতাহাতি ঘটেছে |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | বিজিবি ও এসআরবি সদস্য মোতায়েন |
এই ঘটনার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিচার বিভাগ যে উদ্যোগ নেবে তা নিয়েই এখন সবাই নজর রাখছেন।