ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে আজ (শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ১১ দলীয় জোটের দ্বিতীয় বড় লং মার্চ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশ সকাল ৭টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়; এরপর সকাল ৮টার দিকে বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
কেন্দ্রীয় দাবি ও আঞ্চলিক সংযোজন
সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী লং মার্চের মূল সূচি আট দফা দাবিকে সামনে রেখে চলছে। তাছাড়া উত্তরবঙ্গের গুরুত্ব বিবেচনায় এনে এই রুটে আঞ্চলিক একটি দাবি হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়টি যোগ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এ দাবির গুরুত্ব দিকে ইঙ্গিত করে আয়োজকরা বলছেন যে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘস্থায়ী জলবায়ু, সেচ ও নদী সমস্যার প্রসঙ্গ বিবেচনায় এ দাবি সাদৃশ্য রেখে তোলা হয়েছে।
রুট, সময়সূচি ও পথসভা
| স্থান | সময়/উপলক্ষ্য |
|---|---|
| মানিক মিয়া এভিনিউ, ঢাকা | উদ্বোধনী সমাবেশ (সকাল ৭টা) |
| বহরের ঢাকা ছাড়ার সময় | সকাল ৮টা |
| পথসভা (রুট) | গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা |
| রংপুর | রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ (রাতে) |
- উদ্বোধনী স্থান: মানিক মিয়া এভিনিউ, ঢাকা।
- রুটে পথসভা: গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা।
- সমাপ্তি: রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ।
নেতাদের বক্তব্য ও নির্দেশনা
জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মীদের ধৈর্যশীল হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, “চরম ধৈর্য দেখিয়ে তারা গণতান্ত্রিক কর্মসূচি সফল করবেন।” তিনি একই সঙ্গে কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেওয়া কথাও উল্লেখ করেন।
“চরম ধৈর্য দেখিয়ে তারা গণতান্ত্রিক কর্মসূচি সফল করবেন।” — মিয়া গোলাম পরওয়ার
আরেক সংবাদ সূত্রে জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-চট্টগ্রাম দফার সফলতা প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলেন, সফলতার কারণে “অনেকের মাথা গরম হয়ে গিয়েছে” এবং কিছুদিন ধরে এর লক্ষণ রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে। তিনি অনুরোধ করেন হতাশ হয়ে মাথা গরম না করতে এবং জনতার দাবি মেনে নেওয়ার উপদেশ দেন।
“আমরা অনুরোধ করব, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। বরঞ্চ জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন।” — ডা. শফিকুর রহমান
রংপুরের প্রাসঙ্গিকতা ও স্থানীয় প্রত্যাশা
রংপুর বিভাগে আঞ্চলিক দাবি বিশেষত তিস্তা প্রকল্প সম্পর্কিত আশা ও উদ্বেগ রয়েছে—জলসম্পদ ও সেচ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই দিকটি মাথায় রেখে ১১ দলীয় জোটের রংপুর অভিমুখী লং মার্চে ওই দাবি যুক্ত করা স্থানীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পক্ষগুলো।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো রুটে সমন্বয় ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে কি না—এ প্রসঙ্গে কাগজভিত্তিক ঘোষণা বা প্রশাসনিক তথ্যসূত্র সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি; ফলে প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত স্বপক্ষে এখনই উপস্থাপন করা সম্ভব হলো না।
সামগ্রিকভাবে আজকের লং মার্চটি ১১ দলীয় জোটের দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি হিসেবে পরিকল্পিত; সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী তারা গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি তুলে ধরবেন এবং রংপুর জেলায় রাতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ লড়াইয়ের অগ্রগতির দিকে নজর থাকবে।
এই কর্মসূচি রংপুরবাসীর জন্য স্থানীয় দাবি বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক সংহতি ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।