রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিচতলায় শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাসপাতালের বিদ্যুত্ কন্ট্রোল রুম সংলগ্ন সুইচবোর্ডে শর্টসার্কিট থেকে আগুন ধরে পড়ে। ঘটনার সময় হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী-স্বজন দ্রুত নেমে আসার চেষ্টা করলে অন্তত ৪০ জন আহত হন।
ঘটনার ধারাবিবরণ
ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও হাসপাতালটি প্রায় ছয় ঘণ্টা সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন ছিল। হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ডে পরে আংশিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও নেফ্রোলজি, হৃদরোগ, গাইনী, কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা-কেন্দ্রগুলো অন্ধকারই রয়ে যায়। এতে করে জরুরি অপারেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা বন্ধ ছিল।
রোগী ও স্বজনদের আহত হওয়ার পরিস্থিতি
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় অনেকেই পায়ের নিচে পিছলে পড়ে কিংবা পদদলিত হয়ে আঘাত পান। নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে থাকা রোগী সফিউল আলমকে কোলে করে দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তার দুই ভাতিজা ও সফিউল নিজেও আহত হন। ওই ওয়ার্ডের অন্তত ১৫ জন রোগী তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে আহত হন।
গাইনী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন নারী ও সদ্যজাত শিশুরা থাকায় সেখানে দ্রুত নেমে আসার সময় কয়েকজন শিশুও আঘাত পেয়েছেন। গাইনী ওয়ার্ডের একজন রোগী মমতাজ বেগম জানান, সদ্য জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তানকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তিনি নিজেও আহত হন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিক্রিয়া
‘শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সব ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
এ মন্তব্যটি করেছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মোহা. আব্দুল মোকাদ্দেম। হাসপাতালের পক্ষ থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কোন কোন ওয়ার্ডে সমস্যা ছিল
| ওয়ার্ড/বিভাগ | অবস্থা (রিপোর্ট সময়) |
|---|---|
| চালক কার্যালয় (পরিচালকের কক্ষ) | বিদ্যুৎ ছিল না |
| হৃদরোগ বিভাগ | বিদ্যুৎ ছিল না |
| প্যাথলজি ওয়ার্ড | বিদ্যুৎ ছিল না |
| চর্ম و যৌন ওয়ার্ড | বিদ্যুৎ ছিল না |
| কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড | বিদ্যুত্বিহীন |
| নেফ্রোলজি ওয়ার্ড | বিদ্যুত্বিহীন |
রোগী ও সেবা-প্রতিবন্ধকতার প্রভাব
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে ডায়ালাইসিস, জরুরি অস্ত্রোপচার ও বিশেষায়িত কেয়ারের মতো সেবা প্রভাবিত হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুতের অব্যাহত অনুপস্থিতি তাপ, আলো ও যন্ত্রশক্তি-নির্ভর চিকিৎসাসেবায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, যা বিশেষত তীব্র রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগীরা উপেক্ষিত বা বিলম্বিত চিকিৎসার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সমস্যা ও প্রতিকার নিয়ে কথা
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দিক থেকে সুইচবোর্ড ও কন্ট্রোল রুমে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা ও জরুরি ব্যাকআপ পাওয়ার সিস্টেমের বিকল্প থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ঘরোয়া শটকাট বা প্রযুক্তিগত ত্রুটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে রোগী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্রতিবাদ ও পরামর্শ
- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অগ্নি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাকআপ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া প্রয়োজন।
- তৎক্ষণিক আহতদের সঠিক চিকিৎসা ও অনবরত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
- রোগী ও স্বজনদের দ্রুত সরবাহ করা ও পুনর্বাসনের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও হাসপাতালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ দীর্ঘ সময় বিদ্যুত্বিহীন ছিল; যার কারণে রোগী ও স্বজনরা চরম কষ্টে ছিলেন। ঘটনাটি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও জরুরি অবকাঠামোর প্রস্তুতির বিষয়ে স্থানীয় ভাবে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।