রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া থেকে চারজনের লাশ পাওয়ার ঘটনায় আটক দু'জন—সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নেওয়া হবে। রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ
পুলিশ জানায়, ঘটনার স্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এই আলামত ও নিহতদের নমুনার সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে যাতে তদন্তচক্র বুঝতে পারে আসামিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কি না এবং সেখানে থাকা জৈবিক আলামতগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আছে কি না।
“ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য দুই আসামির নমুনা সিআইডিতে দেওয়া হবে। সেখানে নমুনা সংগ্রহের পর তাঁদের রংপুরে ফেরত আনার কথা রয়েছে,”
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, তদন্তের এই ধাপ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডিএনএ পরীক্ষার ফল ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে। তবে পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়—পুলিশ এই সহপাঠে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী—চার জনকে নিহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর প্রতিবেশী হিসেবে চিহ্নিত মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
| তারিখ | ইভেন্ট |
|---|---|
| ২২ আগস্ট | মাছুয়াপাড়া থেকে চারজনের লাশ উদ্ধার |
| ২০ সেপ্টেম্বর | দুই আসামির ডিএনএ নমুনা ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত |
পুলিশি উপস্থাপনা ও অনুসন্ধান
রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার স্থান থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও নিহতদের নমুনার সঙ্গে অভিযুক্ত দুইজনের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে—যার মাধ্যমে ঘটনার সময় ওই ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা যাচাই করা সহজ হবে।
- গ্রেপ্তাররা: সিদ্ধার্থ দাস, মুগ্ধ দাস
- নিহতরা: গণপতি চক্রবর্তী, প্রীতিলতা চক্রবর্তী, আগামী চক্রবর্তী, প্রিয়ম চক্রবর্তী
- পরবর্তী ধাপ: ডিএনএ নমুনা সিআইডিতে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে প্রেরণ
তদন্ত সংক্রান্ত কর্মকর্তা আরও জানান, সিআইডিতে নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দুই আসামিকে রংপুরে ফেরত আনা হবে যাতে স্থানীয় তদন্তকারীরা তাদের সঙ্গে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।
ফরেনসিক পরীক্ষার গুরুত্ব
ডিএনএ প্রোফাইলিং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে একটি নির্ভরযোগ্য প্রমাণ চক্র হিসেবে বিবেচিত। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত জৈবিক আলামত—যেমন রক্ত, কোষ—এর সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নমুনা মিলিয়ে দেখা হলে তা অভিযোগের সাথে সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে। সূত্ররা বলছে, এই পরীক্ষার ফলাফল ঘটনার খুঁটিনাটি পর্যায়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, যেমন: সংঘটিত ঘটনায় আর কারা জড়িত থাকতে পারে, বা ঘটনার সময় কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তবে পুলিশি কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেছেন যে, পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত কাউকে গাফিলতির বা দোষী ঘোষণা করা হবে না—আইনগত প্রক্রিয়া এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রংপুরে এই হত্যা-কাণ্ড স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তদন্তে এগিয়ে যাওয়া ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফল রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল ও সংযত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশি তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার আরও কোনো নতুন উন্নয়ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হবে বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।