রাজাপুরে ভ্রাম্যমাণ অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও সাজা
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় দেশীয় এক এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সাতুরিয়া ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া বাজারের উত্তর পাশে মিলবাড়ি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানে আটক পাঁচজনের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ১২৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪০০ গ্রাম গাঁজা। অভিযানকারী বলে তদন্তে পাওয়া গাঁজার মধ্যে বড় রোল আটটি এবং ছোট রোল চৌদ্দটি ছিল। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।
আটকদের পরিচয় ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশ
আটকদের নাম ও বয়স প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিম্নরূপ:
| নাম | বাবার নাম | বয়স | ঠিকানা |
|---|---|---|---|
| মো. এমাদুল হাওলাদার | মো. সুলতান হাওলাদার | ৪৫ | নৈকাঠী, রাজাপুর |
| মো. মিরাজ হোসেন | মো. আনোয়ার হোসেন | ২৬ | লেবুবুনিয়া |
| মো. রাকিব খান | মো. মোদাচ্ছর খান | ২৫ | নারিকেলবাড়িয়া |
| মো. হাসিবুর রহমান আকন | মো. হাবিবুর রহমান আকন | ২৫ | লেবুবুনিয়া |
| মো. ইয়াছিন হাওলাদার | মো. নুরু হাওলাদার | ২৫ | বারাকপুর |
আটক ব্যক্তিদের রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেককে দেড় বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। জরিমানা না দিলে প্রতিটি মামলার জন্য আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বাস্তবায়িত হবে।
“মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদকের বিস্তার রোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
পরে উদ্ধার ও প্রশাসনের পরিকল্পনা
উপজেলা প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, অভিযানে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়। এগুলো মাদকদ্রব্য পরিবহনে ব্যবহার করা হত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটককৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারী অফিসাররা আটক সময়ে পাওয়া তথ্য যাচাই করছেন।
- অভিযানস্থল: লেবুবুনিয়া বাজারের উত্তর পাশে মিলবাড়ি এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বাড়ি
- আটকসংখ্যা: ৫ জন
- জব্দকৃত মাদক: ১২৩ পিস ইয়াবা, ৪০০ গ্রাম গাঁজা
- কারাদণ্ড: প্রত্যেককে দেড় বছর বিনাশ্রম ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা
ইউএনও রিফাত আরা মৌরীর মন্তব্য ও প্রশাসনের উদ্যোগে ভবিষ্যতে নিয়মিত অভিযান চলবে বলে জানানো হয়েছে। তিনি মাদকবিরোধী অভিযানকে জেলা ও উপজেলার সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়েরা বলছেন, মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ না করলে যুবসমাজ ও পারিবারিক ভিত্তি নড়বড়ে হতে পারে। রাজাপুর উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি তৎপর থাকে, তাহলে এ ধরনের অভিযানে সহায়ক প্রভাব পড়বে বলে স্থানীয়দের ধারণা। প্রশাসনও জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও নজিরবিহীন অভিযান চালানো হবে যাতে মাদক সরবরাহদাতা ও চক্রগুলোর কার্যক্রম রোধ করা যায়।
এই ঘটনায় দায়েরকৃত সমস্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও যাওয়ার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে; ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া উত্তমভাবে চললে স্থানীয় জনগণ কিছুটা সান্ত্বনা পাবেন বলে প্রতীয়মান।