ঝালকাঠির রাজাপুরে গত ১৭ অক্টোবর রাতে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে তার কাছ থেকে সাত লাখ টাকা এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৮ (এসআরবি-৮) অভিযান শেষে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার তদন্ত ও অভিযানের সময়রেখা, গ্রেফতারের তথ্য ও উদ্ধার সামগ্রী সম্পর্কে পুলিশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও সময়রেখা
এসআরবি-৮-এর মামলার এজাহারের বরাতে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজাপুর উপজেলার বারাকপুর এলাকায় পথরোধ করে একটি দলে থাকা দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ী মো. সুমন মৃধাকে ধারালো রামদা ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে তাঁর কাঁধে বা পাশে থাকা ব্যাগ থেকে নগদ সাত লাখ টাকা এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহত ব্যবসায়ী ওই ঘটনার পর রাজাপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার পরবর্তী তদন্তে এসআরবি-৮ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং গোপন সূত্রের সাহয্যে অভিযান চালায়। ঘটনার প্রায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে বিভিন্ন স্থানে simultaneously অভিযান করে পাঁচ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা নগদের অংশ এবং মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার ও উদ্ধারকৃত মালামাল
গ্রেফতার ব্যক্তিদের নাম ও বয়স এসআরবি-৮ কর্তৃক প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী:
| নাম | বয়স |
|---|---|
| মো. আফজাল হোসেন | ৫০ |
| লিটন হাওলাদার | ৩০ |
| আবুল কালাম | ৩৮ |
| চান মিয়া | ২৯ |
| মামুন হাওলাদার | ২৪ |
এসআরবি-৮ জানায়, গ্রেফতারের সময় থেকে উদ্ধারকৃত সামগ্রী:
- ১ লাখ ৯ হাজার ৫৫১ টাকা নগদ (ছিনতাই করা মোট টাকার একটি অংশ)
- চারটি ব্যবহার্য মোবাইল ফোন
তদন্তের অগ্রগতি ও প্রাথমিক সূত্র
এসআরবি-৮ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার লিটন হাওলাদারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার সম্ভব হয়। গ্রেফতারদেরকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য রাজাপুর থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশি বিবরণ মতে, উদ্ধারকৃত নগদ টাকা মোট ছিনতাইয়ের পুরো পরিমাণের একটি অংশ মাত্র; বাকী অঙ্ক এখনও উদ্ধারের ব্যাপারে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। মামলার তদন্তকর্মী ও সংশ্লিষ্ট থানা ঘটনার সঙ্গে অন্যান্য সূত্র jোড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রভাব ও নিরাপত্তা আশঙ্কা
রাজাপুর ও আশপাশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ধরনের সহিংস ছিনতাইয়ের খবর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নগদ বহন করে চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা আরো সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানিয়েছে, রাতের সময় নির্জন সড়কগুলোতে এমন ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
প্রাত্যহিক নিরাপত্তা ও করণীয়
আরও কোনও নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ ও তদন্তকারীরা জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলছেন, প্রমাণভিত্তিকভাবে অভিযোগ করা হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাধারণভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু প্রাথমিক পরামর্শ:
- রাতের অন্ধকারে একা চলাচল এড়িয়ে চলা;
- অতিরিক্ত নগদ বহন না করা এবং প্রয়োজন হলে ব্যাঙ্কিং চ্যানেল ব্যবহার করা;
- ঘটনা লক্ষ্য করলে দ্রুত স্থানীয় থানা বা হেল্পলাইনকে অবগত করা।
এই ঘটনায় রাজাপুর থানা ও এসআরবি-৮ যৌথভাবে তদন্ত সামাল দিচ্ছে এবং অভিযোগের যথাযথ তদন্ত শেষে মামলাসমূহে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
WE NEWS, ঝালকাঠি থেকে প্রতিবেদন।