স্বাস্থ্য সিলেট সিলেট (54)

সিলেট বিভাগে হাম-সংক্রান্ত মৃত্যু বাড়ছে; গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৫ ভর্তি

সিলেট বিভাগে হাম ও হাম-উপসর্গজনিত রোগীদের সংখ্যা ও মৃত্যু হার বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু এবং নতুন করে ১৫৫ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা জানা গেছে।

সিলেট বিভাগে হাম-সংক্রান্ত মৃত্যু বাড়ছে; গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৫ ভর্তি
©অলংকরণ ডা. শারমিন আক্তার / we-news.com

সিলেট বিভাগে হাম বা হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগ কেটে যায়নি। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও হাসপাতালব্যবস্থা

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি বছর থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম-উপসর্গ নিয়ে বিভাগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৫ জন। একই সময়ে বর্তমানে বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে হাম-উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৬৩২ জন।

সাম্প্রতিক মৃত দুই শিশু হলো—সিলেট সদরের চার মাস বয়সী আদিয়ান এবং হবিগঞ্জ সদরের দশ মাস বয়সী ইয়াসিন। আদিয়ান সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং ইয়াসিন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। দুজনকেই সম্প্রতি হাম-উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এনেছিলেন চিকিৎসকেরা।

সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তি বিবরণ

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একদিনের ব্যবধানে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬৬ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৪ জন এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ জন ভর্তি হয়েছে।

  • নতুন মৃত্যু (২৪ ঘণ্টা): ২ শিশু
  • চলতি বছরে মোট মৃত: ১৭৫ জন
  • নতুন ভর্তি (২৪ ঘণ্টা): ১৫৫ জন
  • চিকিৎসাধীন (বর্তমান): ৬৩২ জন

জেলা ও নিশ্চিত আক্রান্তের পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য বিভাগের আরও তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, এই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১,০৫৩ জন। জেলার ভিত্তিতে যারা শনাক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৮৫, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন রয়েছেন।

জেলা নিশ্চিত হাম রোগী (১ জান–২৩ সেপ্টেম্বর)
সিলেট ৩৮৫
হবিগঞ্জ ১৫৩
মৌলভীবাজার ১৫৮
সুনামগঞ্জ ৩৫৭

চিকিৎসকদের মন্তব্য ও ঝুঁকি বিষয়ক নির্দেশনা

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে হাম-উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে অনেকে টিকা গ্রহণ করেনি। এছাড়া পুষ্টিহীনতা, নিউমোনিয়া, হৃদরোগ, জন্ডিস মতো অন্যান্য শারীরিক জটিলতাগুলোর উপস্থিতি তাদের অবস্থাকে গুরুতর করেছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান ছাড়াও জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা জরুরি। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং দুর্বলতা দেখা যায়—শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হলে অল্প সময়ে অস্বস্তি হ্রাস পায় এবং জটিলতা কমে।

পাঠকের জন্য কী করতে হবে

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালগুলোকে নজরদারী বাড়াতে বলা হয়েছে। পরিবারের সচেতনতার জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ:

  • যদি শিশুর জ্বর বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিন।
  • টিকা গ্রহণ করে রাখা varsa (যদি প্রযোজ্য) তা নিশ্চিত করুন।
  • হাতে ধোয়া, ঢেকে কাশি-ছোঁয়া বন্ধ করার মতো সতর্কতা অবলম্বন করুন।
  • পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো রোগীর সঠিক তত্ত্বাবধানে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি এবং মৃত্যু বাড়ছে—এই পরিস্থিতি দ্রুত পর্যবেক্ষণ ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের ব্যতিক্রম ছাড়া সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

ডা. শারমিন আক্তার
ডা. এআই স্বাস্থ্য সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ডা., WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

54সিলেট

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো সিলেট, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব