সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে সোমবার একদিনে একই ধারায় দুইটি বড় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট চারজন নিহত এবং কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাগুলো ঘটে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সড়কে—কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে।
লালাবাজারে ট্রাক-বাস সংঘর্ষে একজন নিহত
ভোর ছয়টারও আগে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার স্থানে কুশিয়ারা পেট্রোল পাম্পের সামনে সিলেটগামী একটি যাত্রীবাহী বাস এবং বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বাসের একজন হেলপার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনায় বাসের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ট্রাকের সামনের অংশও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আহতরা উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে; পুলিশ জানায় অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
“নিহত বাস হেলপারের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আহতদের ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
নবীগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে তিনজন নিহত
আরেকটি পৃথক দুর্ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর এলাকায়। সেখানে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি পিকআপ ভ্যান মুখোমুখি সংঘর্ষ করে। এ ঘটনায় পিকআপ ভ্যানে থাকা তিনজন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন—নবীগঞ্জ উপজেলার জিলারবাক ইউনিয়নের কারখানা গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে এবং ইনাতগঞ্জ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মশহুদ আহাম্মদ (৪০), ইনাতগঞ্জ দক্ষিণ গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে সবজি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম (৫০) এবং ইনাতগঞ্জ বাজারের ফাহিম সবজি ভান্ডারের কর্মচারী ময়না মিয়া (৩০)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলেছে, সকালে কয়েকজন সবজি ব্যবসায়ী এবং তাঁদের কর্মচারীরা পিকআপ ভ্যানে করে বাহুবল উপজেলার দিগম্বর বাজারে কাঁচামাল নিতে যাচ্ছিলেন। পথে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন; পিকআপের চালক এবং আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্য ও উদ্ধারকাজ
দুইটি ঘটনায় উদ্ধারকাজ ও আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরের তথ্য নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ও নবীগঞ্জ সংশ্লিষ্ট পুলিশ ব্যুরো। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ভোর এবং সকালে সড়কে যানবহুলতা ও অপেক্ষাকৃত দ্রুত গমনাগমন ছিল।
- মোট নিহত: ৪ জন (লালাবাজারে ১, নবীগঞ্জে ৩)
- আহত: অন্তত ৭ জন (লালাবাজারে কমপক্ষে ৫ জন গুরুতর; নবীগঞ্জে চালকসহ ২ জন গুরুতর)
- ঘটনাস্থল: দক্ষিণ সুরমা—লালাবাজার; হবিগঞ্জ—নবীগঞ্জ (পানিউমদা ইউনিয়ন, রোকনপুর)
| স্থান | ঘটনার ধরন | নিহত | আহত (কমপক্ষে) |
|---|---|---|---|
| লালাবাজার, দক্ষিণ সুরমা | ট্রাক-মুখোমুখি যাত্রীবাহী বাস | ১ (বাস হেলপার) | ৫ |
| রোকনপুর, নবীগঞ্জ | বাস-পিকআপ ভ্যান সংঘর্ষ | ৩ | ২ |
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সিলেট বিভাগে প্রধান রুট হওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা এলাকাবাসীর জন্য বড় প্রভাব ফেলে। বাণিজ্যিক যাতায়াত ও কচেভর্তি পিকআপ-ভ্যানের সংমিশ্রণে ভোর ও সকাল বেলা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে জরুরি সহায়তা ও তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
প্রতিরোধ ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। কোথাও দ্রুত চালনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণহীনতা বা পথের কি কোনো ত্রুটি ঘটেছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় থাকবে। অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও ট্রাক-মালিকদের দিক থেকেও সচেতনতা বাড়ানো দরকার বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
এক্ষেত্রে পুলিশি তৎপরতা, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার পৌঁছানোকালীন গতি ও সড়ক নিরাপত্তা আইন-কঠোরভাবে প্রয়োগ করা কি না—এসব প্রশ্নও উঠছে। বয়স্ক ও কর্মরত ব্যস্ত সময়ে পিকআপে অধিক সংখ্যক যাত্রী বোঝাই করা, যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ও ড্রাইভারদের বিশ্রামহীনতার বিষয়গুলো নিয়মিত মনিটরিং করলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন থেকে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আরও তথ্য জানা যাবে। এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে লালাবাজারে একজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি; নবীগঞ্জে নিহত তিনজনের নাম ও পটভূমি স্থানীয় পুলিশ ও সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও দ্রুত আরোগ্যের অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা; পাশাপাশি মহাসড়কে ভোর-সকাল এবং রাতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছে পুলিশ।